স্টক এক্সচেঞ্জের লভ্যাংশের উপর থেকে উৎসে আয়কর প্রত্যাহার করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড়ে (এনবিআর) প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ। বুধবার রাজস্ব ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় ডিএসই ও সিএসই এ দাবি  জানায়।
এই করের ফলে দ্বৈত করের জটিলতা তৈরি হয়েছে উল্লেথ করে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানি একবার  আয়ের উপর কর দিচ্ছে অন্যদিকে একই আয়ের ভিত্তিতে ঘোষিত লভ্যাংশে কর দিতে হচ্ছে যা অযৌক্তিক বলে দাবি করে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ। তাই এক্সচেঞ্জের নেতারা মনে করেন এই কর প্রত্যাহার করা হলে কোম্পানি লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা আরো বাড়বে।
তারা বলেন পুঁজিবাজারে মন্দার কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকের আয় করযোগ্য সীমার নিচে থাকার পরও উৎসে কর কাটা হচ্ছে। তাই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কর রেয়াত সুবিধা দেয় প্রয়োজন। এ কর রেয়াতের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করার দাবি করেন নেতারা।
প্রস্তাবে করপোরেট আয়ে রেয়াত সুবিধা পুনর্বিন্যাসের কথা বলা হয়। ২০ শতাংশের বেশি কিন্তু ২৫ শতাংশের কম লভ্যাংশের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং ২৫ শতাংশের বেশি লভ্যাংশের ক্ষেত্র ১৫ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।
এ সময় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নতি না হলে অর্থনীতিরও উন্নতি হবে না। তাই পুঁজিবাজারের উন্নয়ন এনবিআরও চায়। সরকার এ বাজারের জন্য অনেক প্রণোদনাও দিয়েছে। কিন্তু তাতে তেমন কাজ হয়নি।
বাজারের উঠা-নামা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সূচক উঠা-নামা এটি পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক বিষয়। উঠা-নামা না থাকলে ধরে নিতে হবে সে বাজার গতিহীন। তবে এই উঠা-নামা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হয়, এতে যেন কোনো কারসাজি না থাকে।
তিনি বলেন, এখন আর আগের মতো ম্যানুপুলেশনের (কারসাজি) কথা শোনা যায় না। তবে পুঁজিবাজারের উন্নয়নের স্বার্থে এটিকে আরও কমাতে হবে।
কর কমানোর প্রস্তাব বিষয়ে গোলাম হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি আলোচনা করবেন। তবে এ সম্ভাবনা যে ক্ষীণ তা তার আভাস ফুটে উঠে তার বক্তব্যে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমার কাছে প্রায় দুই হাজার আবেদন আছে কর কমানোর। যদি কর কমানোর জন্য এতে আবেদন জমা পড়ে আর তা বিবেচনা করতে হয় তাহলে দেশ চলবে কী করে।
এনবিআরের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, কর নীতি সদস্য আমিনুল ইসলাম, ডিএসইর চেয়ারম্যান বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. স্বপন কুমার বালা, পরিচালক রুহুল আমিন, শাকিল রিজভী, খাজা গোলাম রসূল, মোহাম্মদ শাজাহান, শরীফ আনোয়ার, সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাজিদ হোসেন, সিএফও আহমেদ দাউদ, সিডিবিএলের উপ-ব্যবস্থানা পরিচালক শুভ্র কান্তি চৌধুরী প্রমুখ।
[b]ঢাকা, ২৩ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]