ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণগ্রহণের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের তিন মাস নয় দিনে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ৪ হাজার ৬৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময় ছিল ১ হাজার ২৫২ কোটি ২০ লাখ টাকা।
সেই হিসেবে চলতি অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণ ২৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে গৃহীত সরকারের ঋণ পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সরকারের রাজস্ব সংগ্রহে বেশ মন্থরগতি লক্ষ করা যায়। এরই মধ্যে মুসলমানদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারকে চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ও বোনাস পরিশোধে বড় অঙ্কের ব্যয় করতে হয়। এ অবস্থায় দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে সরকার পুরোপুরি ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এতে ব্যাংকগুলোতে থেকে ঋণগ্রহণের হার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরকার দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিতে পারে। এতে ১ জুলাই থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত তফসিলি ব্যাংকগুলো থেকে সরকার ৭ হাজার ১৯২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার ঋণ নিয়েছে। তবে এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো প্রকার ঋণ গ্রহণ করেনি, বরং ২ হাজার ৫৬০ কোটি আট লাখ টাকা আগের ঋণ পরিশোধ করেছে। এতে নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের শুরুতে সরকারের ব্যাংকঋণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগে দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে অনেকটাই হিমশিম খাচ্ছে সরকার। তবে সরকারের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ বাড়লেও অর্থনীতিতে কোনো অসুবিধা হবে না। কেননা দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের হারও সীমিত। এতে ব্যাংকগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণের তারল্য পড়ে রয়েছে। এ অবস্থায় সরকারকে ঋণ দিয়ে হলেও কিছু আয় করতে চাচ্ছে ব্যাংকগুলো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণগ্রহণের হার ৬৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে ছিল। অথচ এর আগের অর্থবছরে ঋণ বেড়েছিল ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। গত অর্থবছরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ না হওয়ায় ব্যাংকঋণের পরিমাণ কমেছিল। তবে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা, যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ছিল ২৯ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। সেই হিসেবে চলতি অর্থবছরে ব্যাংকঋণ লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ বেড়েছে ১ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, দেশের ব্যাংকগুলোর কাছে বর্তমানে পর্যাপ্ত তারল্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। আর বিনিয়োগ মন্দা পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ অর্থ সরকারের ট্রেজারিতে বিনিয়োগ করেছে। আগে ব্যাংকগুলো সরকারকে ঋণ দিতে অনীহা দেখালেও বর্তমানে রীতিমতো প্রতিযোগিতা লেগে গেছে। আর আমানতের সুদহার কমে যাওয়ায় জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণও কয়েক গুণ বেড়েছে। তারপরও সরকারের প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান ব্যাংকগুলোকেই করতে হচ্ছে। কেননা অর্থবছরের শুরুতে সরকারের রাজস্ব আয় তেমন একটা বাড়ছে না।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের দু’মাসে ১৬ হাজার ৮৭২ কোটি ৬০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। সেই হিসেবে দু’মাসে ১১ শতাংশ রাজস্ব আয় হয়েছে।
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমআর





