যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গত ১৪ বছরে তৈরি পোশাকের রফতানি মূল্য কমেছে ৪০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এ মূল্য পতন ঠেকাতে হলে বায়ার ও খুচরা বিক্রেতার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদনকারীদেরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যাতে একটি নির্দিষ্ট দরের কমে কেউ পোশাক রফতানি করবেন না। এ ছাড়া তৈরি পোশাকের বিভিন্ন ইউনিটের জন্য একটি নির্দিষ্ট দর ঠিক করে দিতে হবে।

‘বস্ত্র খাতের উন্নয়ন ও মূল্য বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে এ সব কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফেকচারার্স এ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ভবনে বৃহস্পতিবার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন যুক্তরাস্ট্রের পেন এস্টেট ইউনির্ভাসিটির সহযোগী অধ্যাপক মার্ক এনা ও ইউনিভার্সিটি অব কলোরডো সহযোগী অধ্যাপক জেনিফার বারি।

বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সহ-সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের রিসার্চ ফেলো খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদসহ বিজিএমইএর সহ-সভাপতি ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘গার্মেন্ট ইন্ডাস্টির এখন চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে। তাই উৎসে করের মাধ্যমে ১২০০ কোটি টাকা আয় করে সরকারের কী লাভ হবে, যদি দেশে বেকারত্ব বেড়ে যায়। ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো গার্মেন্ট রপ্তানিতে ডাবল ডিজিটে প্রবৃদ্ধি করলেও বাংলাদেশ তা ৩ শতাংশের কম। এ অবস্থায় কর হার বাড়ানো হলে এ খাত আরও হুমকির মুখে পড়বে।’

প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীকে এ দুরবস্থা বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা দয়া করে এ প্রস্তাব আবার বিবেচনা করুন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজটে রফতানিতে ১ শতাংশ উৎস কর আরোপ করা হয়।’

শফিউল ইসলাম বলেন, ‘গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি বিকশিত হলে অন্যান্য খাত থেকে সরকার যে ট্যাক্স পাবে তা এর (উৎস কর) চেয়ে বেশি হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, সরকার কেন ট্যাক্স (উৎস কর) বাড়াচ্ছে। আপনারা দয়া করে এটা পুনর্বিবেচনা করুন।’

পেন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মার্ক এ্যানার তার তার গবেষণা প্রতিবেদনে বলেন, ‘মন্দার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কাপড়ের নিত্য পণ্যের দাম ৪০ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে গেছে। যার ফলশ্রুতিতে উৎপাদনকারী এবং সরবরাহকারী দেশগুলোতেও এর পভাব পড়েছে।’

গার্মেন্ট পণ্যের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করতে উৎপাদনকারী দেশগুলোকে একত্রিত হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন। বিভিন্ন প্রকার তথ্য আদান-প্রদান এ কাজে সফলতা পাওয়া যেতে পারে। একইসঙ্গে বায়ারদের আধিপত্য কমাতে খুচরা বিক্রেতা ও সরকারের হস্তক্ষেপে প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘বায়ারদের আধিপত্য কমাতে তাদের দেশের সরকারকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। পণ্য কিনতে যথাযথ দাম দিতে ক্রেতাদের উৎসাহিত করতে হবে।

এ ছাড়াও তিনি সরবরাহকারী দেশে উদ্যোক্তাদেরও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

খন্দকার মোয়াজ্জেম বলেন, ‘পণ্যের দাম কমে যাওয়াতো বড় ইস্যু। কিন্তু এতে উৎপাদকদের লাভ কমলেও একইসাথে বায়ারদের লাভ কমেছে কিনা তা বিবেচনা করতে হবে। দেখতে হবে, রিটেইলরা কতটুকু নৈতিকভাবে ব্যবসা করছে।’

সবার স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য লাভের সুষম বন্টনের প্রস্তাব করেন তিনি।

আহসান এইচ মনসুর তার বক্তব্যে উৎপাদক দেশগুলোকে নিয়ে ওপেকের আদলে জোট গড়ার কথা বলেন। তবে তেল এবং গার্মেন্ট পণ্য ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় এক্ষেত্রে তার কার্যকারিতা কতটুকু তা ভেবে দেখা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

জেআই