লাভ-ক্ষতির অংশীদারির ভিত্তিতে চূড়ান্ত হয়েছে ইসলামী বন্ড নীতিমালা। এখন থেকে নিবাসী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবে। তবে অনাবাসীরাও শর্তসাপেক্ষে বিনিয়োগের যোগ্য হবেন। এক লাখ টাকা বা তার যেকোনো গুণিতক মূল্যের অভিহিত মূল্যে তিন মাস ও ছয় মাস মেয়াদে বন্ড বিক্রি হবে।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ‘ইসলামী বিনিয়োগ বন্ড (ইসলামী বন্ড) নীতিমালা-২০০৪ (সংশোধিত-২০১৪’ জারি করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, সরকারের ট্রেজারি বিল ও বন্ড সুদভিত্তিক হওয়ায় ইসলামী ব্যাংকগুলো সরকারের ঋণের আওতামুক্ত ছিল। তবে ইসলামী বন্ড নীতিমালা সংশোধন করায় ইসলামী ব্যাংকগুলোর কাছ থেকেও সরকার ঋণ নিতে পারবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকগুলো একটি প্রকল্পের মাধ্যমে মুনাফাভিত্তিক ইসলামী বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো সংবিধিবদ্ধ তারল্যের হার (এসএলআর) প্রদান করতে পারবে। সব ধরনের ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মালিক সরকার, তাই এ বন্ডের মাধ্যমে সরকার ঋণও নিতে পারবে।
একইসঙ্গে কোনো ব্যাংকে নগদ টাকার সমস্যা হলে সঙ্কট মেটাতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বন্ড বন্ধক রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত ইসলামী তহবিল থেকে ধার নিতে (রেপো) পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ায় ঋণ গ্রহণে প্রচলিত ব্যাংকের ওপর সরকারের চাপ কমবে।
এর আগে সরকারের ব্যাংকঋণের সরবরাহ পূরণে প্রচলিত সব ব্যাংককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওই সার্কুলারে বলা হয়, সরকারের ঋণ চাহিদা মেটাতে প্রথমে ১২টি পিডি ব্যাংকের মধ্যে নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পিডিরা ব্যর্থ হলে অনার্জিত অংশের ৬০ শতাংশ আবার বাধ্যতামূলকভাবে পিডিদের সরবরাহ করতে হবে। যার ৩০ শতাংশের জন্য আবার নিলাম অনুষ্ঠিত হবে, বাকি ৩০ শতাংশ সবার মধ্যে বণ্টিত হবে। অনার্জিত অংশের বাকি ৪০ শতাংশ দিতে হবে নন-পিডি ২৫টি ব্যাংককে। তবে পিডিদের মধ্যে যে ৩০ শতাংশের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে সেখানে নন-পিডিরাও অংশ নিতে পারবে। এজন্য তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ তারল্য সুবিধা নিতে পারবে।
সূত্র মতে, বন্ডের সংশোধিত নীতিমালায় সরকারের ঋণ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত বন্ডের মতো মুনাফা ভাগাভাগির ভিত্তিতে ইসলামী বন্ডের উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর নিলামের নীতিমালা সময়ে সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিবর্তন করতে পারবে।
একইসঙ্গে সরকার বিশেষ উদ্দেশ্যে শরিয়া অনুমোদিত সুনির্দিষ্ট খাত বা সম্পদ ভিত্তিতে বিভিন্ন মেয়াদি ইসলামী বন্ড ইস্যু করতে পারবে। ইসলামী ব্যাংকগুলো অর্থ সঙ্কটে পড়লে ইসলামী বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বন্ধক রেখে অথবা অন্য কোনো ইসলামী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্ধক রেখে ঋণ নিতে পারবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, তিন মাস মেয়াদি বন্ডের মুনাফা হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের তিন মাস মেয়াদি আমানতের ঘোষিত মুনাফার হারের সমান। আর ছয় মাস মেয়াদি বন্ডের মুনাফা হবে ছয় মাস মেয়াদি স্থায়ী আমানতের ঘোষিত মুনাফার হারের সমান।
ইসলামী বন্ড তহবিল থেকে গৃহীত তহবিলের বিপরীতে সাময়িকভাবে প্রদত্ত মুনাফা চলতি পঞ্জিকা বছর (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) অনুযায়ী ঘোষিত চূড়ান্ত মুনাফার হার অনুসারে সমন্বয় করা হবে।
যেসব প্রচলিত ধারার ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মাসিক ভিত্তিতে মুনাফা চূড়ান্ত করে থাকে তাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মাসের ঘোষিত মুনাফার হারই বিবেচনাযোগ্য হবে।
ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমআর





