গেল সপ্তাহে দেশের উভয় পুঁজিবাজারে সূচকের পতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গেল সপ্তাহে প্রধান মূল্যসূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক কমেছে ৮ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক কমে ১১ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট। অন্যদিকে দৈনিক গড় লেনদেন ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮২ কোটি ৬৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এদিকে মুনাফা তোলার প্রবণতায় থাকা সত্ত্বেও দেশের অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সামান্য বৃদ্ধি পায়। সিএসইর সার্বিক সূচক বাড়ে ৭ দশমিক ৪১ পয়েন্ট।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, যৌক্তিক মূল্যের বেশি দরে লেনদেন হওয়া শেয়ার ছেড়ে দর অনুকূলে থাকা শেয়ার কেনার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাস করছেন। এতে সপ্তাহের শুরুতে বিক্রির চাপ বাড়ে। কার্যদিবসের শুরুতে সূচক কিছুটা কমে যায়। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোও জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করেছে। এতে কোম্পানির আয় তথ্য কেমন হয়, সে নিয়েও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গেল সপ্তাহে শুরুতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তোলার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। শুরুতে কয়েকটি কোম্পানির আয় সংকোচনে তথ্য প্রকাশ করে, যার প্রভাব কিছুটা পড়ে। প্রথম কার্যদিবস রোববার ডিএসইএক্স সূচক কমে ৬২ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট। এদিন লেনদেন হয় ৩২৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। পরের কার্যদিবস সোমবার সূচক কিছুটা স্থির অবস্থা দেখা যায়, এদিন সূচক বাড়ে ১ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট। লেনদেন হয় ৩৬৮ কোটি টাকার।
মঙ্গলবার সবচেয়ে বড় বাজার মূলধনি কোম্পানি গ্রামীণফোনের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি এদিন দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধির খবরে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
মঙ্গলবার ডিএসইতে সূচক বাড়ে ৫৬ দশমিক ৫২ পয়েন্ট। এদিন লেনদেন হয় ৪৪৮ কোটি টাকার। পরের কার্যদিবস বুধবার ডিএসইর সূচক বাড়ে ১২ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট। শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর সূচক কিছুটা কমে ২০ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহে মোট ৩০১টি কোম্পানির ৪১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৮৩টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়; যার বাজারদর ছিল ১৯১৩ কোটি ৩২ লাখ ৪১ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বাড়ে ১৬৩টির, কমে ১১৪টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির দর।
ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের চেয়ে ১১ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫৫৫ দশমিক ১২ পয়েন্টে। অন্যদিকে নির্বাচিত সূচক ডিএসই-৩০ আগের সপ্তাহের চেয়ে ৫ দশমিক ৯২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৬৬৬ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্টে।
অন্যদিকে সিএসইতে গেল সপ্তাহে ২৫১টি কোম্পানির মোট ৩ কোটি ৮২ লাখ ৯৪ হাজার ১০৮টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়; যার বাজারদর ছিল ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ ১১ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৮টির, কমেছে ৯১টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২২টির।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলো হলো-গ্রামীণফোন, মেঘনা পেট্রোলিয়ামস, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, মতিন স্পিনিং, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, স্কয়ার ফার্মা, পদ্মা অয়েল, গোল্ডেন সন্স ও বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি।
ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি দরবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলো হলো-সালভো কেমিক্যাল, ইন টেক অনলাইন, আনওয়ার গ্যালভানাইজিং, নর্দার্ন জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, বিআইএফসি, মতিন স্পিনিং ও প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলস।
অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দর হ্রাস পাওয়া কোম্পানিগুলো হলো-ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক, সিঙ্গার বাংলাদেশ, এনসিসি ব্যাংক, বাটা সু, সপ্তম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, ইবনে সিনা, রেকিট বেনকিজার, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ, কোহিনূর কেমিক্যাল ও রেনাটা লিমিটেড।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক কমেছে ৮ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ কমেছে ৯১ পয়েন্ট এবং সিএএসপিআই সূচক বেড়েছে ৭ পয়েন্ট। গত সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ ১০ হাজার ৯৩১ টাকা।
[b]ঢাকা, ১০ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]