বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১২টায় প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ ডলার ৫০ সেন্ট বা ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ৭৮ ডলার ৬১ সেন্টে নেমে এসেছে। আর ডব্লিউটিআই ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম নেমে এসেছে ৭৩ ডলার ৬৫ সেন্টে; কমেছে ৩ ডলার ২৮ সেন্ট বা ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ।
‘গত তিন মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দরে এমন পতন হয়নি’ জানিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিশ্ব অর্থনীতির বেহাল অবস্থা থেকে উদ্বেগের কারণে তেলের দাম কমেছে। শুরু হওয়া নতুন বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর যদি সেটা হয়, তাহলে তেলের চাহিদা কমে যাবে। সে কারণেই দর পড়ছে।’
‘আবার বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনে নতুন করে কোভিড ছড়িয়ে পড়ায় সে দেশটিতেও তেলের চাহিদা কমে যাবে। সব মিলিয়ে তেলের বাজারে তার প্রভাব পড়েছে এবং দামে পতন হয়েছে।’
নতুন বছরের প্রথম দিনেই বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অশনি এক বার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি বলেছে, নতুন বছরেই মন্দার কবলে পড়বে বিশ্বের এক–তৃতীয়াংশ দেশ। যার প্রভাব পড়বে সারা বিশ্বে।
আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা মন্দার এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যা উদ্বেগ ছড়াচ্ছে বিশ্বের দেশে দেশে।
ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, ‘নতুন বছর তথা ২০২৩ সালের বিশ্ব অর্থনীতি গত বছরের তুলনায় কঠিন সময় পার করবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থনীতির গতি এরই মধ্যে মন্থর হয়ে গেছে।’
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুদ হার বেড়ে যাওয়া ও চীনে নতুন করে করোনা ভাইরাসের বিস্তার বিশ্ব অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এতে বিশ্বের এক–তৃতীয়াংশ দেশের অর্থনীতি চলতি বছর মন্দার কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সিবিএস নিউজের এক অনুষ্ঠানে আইএমএফের প্রধান এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন। এর আগে গত অক্টোবরে প্রকাশিত আইএমএফের অথনৈতিক আউটলুকে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমানো হয়েছে।





