২০১৪-১৫ সালের প্রস্তাবিত বাজেটকে সম্ভাবনাময় বললেও দারিদ্র বিমোচন ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য অস্পষ্ট বলে মন্তব্য করেছে বিশ্বব্যাংক।  বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেছে বিশ্ব ব্যাংক। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন খুবই চ্যালেঞ্জিং হবে। কেননা প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে বিনিয়োগের হার এক বছরে বর্তমান অবস্থা থেকে পাঁচ শতাংশ বাড়াতে হবে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে হয়নি। অন্যদিকে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে যে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো হবে, সেটিও শতভাগ বাড়ানো সম্ভব নয়। এ জন্য এ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হলেই যথেষ্ট হবে

বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন খুবই চ্যালেঞ্জিং হবে। কেননা প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে বিনিয়োগের হার এক বছরে বর্তমান অবস্থা থেকে পাঁচ শতাংশ বাড়াতে হবে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে হয়নি। অন্যদিকে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে যে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো হবে, সেটিও শতভাগ বাড়ানো সম্ভব নয়। এ জন্য এ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হলেই যথেষ্ট হবে।

বাজেটপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, নতুন বাজেট সম্ভাবনাময়। কেননা এখানে দর্শন রয়েছে। তেমনি ২০১৮ সালের মধ্যে অতিদারিদ্র্য উল্লেখযোগ্য হারে কমানো এবং প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির অঙ্গীকার রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় ও উন্নয়নের প্রয়োজনে এ বাজেট বিশাল নয়। কিন্তু বাস্তবায়নযোগ্যতার বিবেচনায় এটি বড় বাজেট।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইউহানেস জাট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।

জাহিদ হোসেন বলেন, ‘জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে তিনটি চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে। একটি হলো রফতানি কমে যাওয়া, যেটি এখনও অব্যাহত রয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো ব্যক্তি খাতে ঋণপ্রবাহের দুর্বলতা ও বেসরকারি বিনিয়োগে বিরাজমান দুর্বলতা। তবে ২০২১ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা শিল্পায়নের ওপর ভিত্তি করে এ লক্ষ্য অর্জন করা যাবে। বাজেটে সেটিই ধরা হয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব হবে।’

মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সার্বিক মূল্যস্ফীতি উচ্চপর্যায়ে থাকলেও স্থিতিশীল মুদ্রানীতি সঠিক অবস্থানে ছিল, সেটি এখনও আছে, এটি ভালো।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক খাতের দুর্বলতাগুলো এখনও রয়েছে। যেমন- ননপারফর্মিং ঋণ বেড়েছে, সরকারি ব্যাংকের স্টক অব ল্যান্ডিং কমেছে প্রভৃতি।

বাজেটে সম্পদ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বর্তমানে ১৭ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে যে কৌশলগুলো ঘোষণা করা হয়েছে, সে সব বাস্তবায়নযোগ্য।

এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, বাস্তবায়নযোগ্যতার তুলনায় এর আকার অনেক বড়। মোট প্রকল্পের সংখ্যা আগেও বেশি ছিল, এখনও বেশি। এ ছাড়া নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সর্তক হতে হবে।

পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, এটি একটি অসম্পূর্ণ প্রক্রিয়া। তারপরও বাজেটে ৩৪টি প্রকল্প রাখা হয়েছে। কিন্তু পিপিপি বাস্তবায়নের রের্কড দুর্বল। এক্ষেত্রে দুটি সমস্যা হলো- পিপিপি অফিসের দক্ষতার অভাব এবং আইনি কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়া। ফলে আইন পাস করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই।

রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হয়েছে। সেটি পূরণ করতে হলে কর নিট রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। অর্থনীতির আকার বাড়ার সঙ্গে কর বাড়াতে হবে।
শে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে যে কৌশলগুলো ঘোষণা করা হয়েছে, সে সব বাস্তবায়নযোগ্য।

ঢাকা, ২৫ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর