পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে রাজধানীতে বেড়ে যাওয়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমছেই না। কাঁচাবাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে টমেটো, ঢেড়স ও কাঁচা মরিচের দাম। পাশাপাশি বেড়েছে মাছের দরও। তবে বেগুনসহ দুএকটি সবিজর দাম কমেছে।

অন্যদিকে রাজধানীর কাঁচাবাজারে বেড়েছে টমেটোর দাম। প্রতিকেজি টমেটো ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কমেছে করলার দাম। তবে চাল ডালসহ অন্যান্য মুদি পণ্যের দামের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এছাড়া পাইকারি বাজার অপরিবর্তিত থাকলেও ঈদের বেশ কিছুদিন আগেই খুচরা বাজারে বেড়েছে গরম মসলার দাম। এছাড়া রোজার শুরু থেকেই পেঁয়াজ, আদা, রসুন এবং শুকনা মরিচের দাম ঊর্ধ্বমুখীই রয়েছে।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টকা দরে। পোলাও চালের দাম কিছুটা বাড়লেও অন্যান্য মুদি পণের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।

শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি টমেটো ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার বাজারভেদে টমেটো বিক্রি হয় ১২০ টাকা। এছাড়া করলা কেজিতে ১০ টাকা কমে ৬০-৭০ টাকা, সিম ১৫০-১৬০ টাকা, ফুলকপি পিচ ৪০-৪৫ টাকা ও বাঁধাকপি পিচ ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।এদিকে শনিবার প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০-৪২ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০-৪৪ টাকা দরে বিক্রি করছেন দোকানিরা।

শনিবার প্রতি কেজি সিম ১৫০-১৬০ টাকা, বেগুন ৯০-১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, সাদা আলু ২৫ টাকা, দেশি আলু ৩৫ টাকা, ধুন্দল ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা, গাজর ৫০-৬০ টাকা, করলা ৬০-৭০ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা, শুকনা মরিচ ১৫০-১৭০ টাকা, কচুর মুখী ৫০, কচুর লতি ৪০-৫০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, শশা ৫০-৬০ টাকা, প্রতি হালি লেবু ২০-৩০ টাকা ও কাঁচাকলা হালি ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ফুল কপি ৪০-৪৫ টাকা, বাঁধা কপি ৩৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০-৪৫ টাকা, জালি কুমড়া ৪০-৪৫ টাকা, লাউ ৫০-৬০ টাকা, সবুজ শাক আটি ১০-১২ টাকা, লাউ শাক ২০ টাকা, লাল শাক ১০ টাকা, মুলা শাক ১০ টাকা, পুঁইশাক ২০-২৫ টাকা, ডাটা ১৫-২০ টাকা, কলমি শাক ৫ টাকা ও ধনে পাতা (১০০ গ্রাম) ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৭০ টাকা, গরুর মাংস ৩০০ টাকা ও খাসির মাংস ৪৫০-৪৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি চাপিলা বাটা ২০০-২৪০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৪০০-৫০০ টাকা, বড় চিংড়ি ৫৫০-৭০০ টাকা, টেংরা ৬০০-৭০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, ৪০০-৪৫০ টাকা, চেওয়া ৩৫০-৪০০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০-১৫০ টাকা, পোয়া মাছ ৪৫০-৫৫০, কৈ ২৪০-৩০০ টাকা, পাবদা ৫৫০-৬০০ টাকা, মাঝারি রুই ২২০-৩৫০ টাকা, চায়না পুটিঁ ২৪০ টাকা, কাইট্টা ৪০০-৪৫০ টাকা, মৃগেল ১৭০-২০০ টাকা, কাতল ৩২০-৪৫০ টাকা, লি ৩৫০-৪০০ টাকা, বাইন ৫৫০-৬৫০ টাকা, শিং মাছ ৫০০-৬৫০ টাকা, মাগুর ৭০০-৮০০ টাকা ও আকারভেদে এক জোড়া ইলিশ ৮০০-১৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০-৪২ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০-৪৪ টাকা, দেশি আদা ১৮০-২০০ টাকা, বিদেশি আদা ২৪০-২৫০ টাকা, রসুন একদানা ১৪০ টাকা, রসুন তিন দানা ৮০ টাকা, বড় রসুন ৯০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১০০-১১০, ভারতীয় মসুর ডাল ৮০-৮৫ টাকা, অস্ট্রেলিয়ান মসুর ডাল ১১০-১১৫ টাকা, খেসারি ডাল ৪৫ টাকা, ছোলা ৫৫-৬০ টাকা, মুগ ডাল ১১৫-১২০ টাকা, মটর ডাল ৮০ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৫০, বুট ডাল ৭০ টাকা, চিনি ৪৬-৪৮ টাকা এবং আটা ৩২ টাকা দরে বিক্রি করছেন দোকানিরা।

প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১০০-১১০ টাকা ও পামলিন ৯০-৯৫ টাকা এবং ফার্মের মুরগির প্রতি হালি লাল ডিম ২৮ টাকা, হাসের ডিম ৩৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি কেজি বি.আর.আটাশ চাল ৪০-৪৪ টাকা, পারি ৩৭-৩৮ টাকা, বি.আর. ঊনত্রিশ ৩৮-৪০ টাকা, মিনিকেট ১ নং ৪৮-৫০ টাকা, নাজির ১ নং ৫০-৫২ টাকা, নাজির ২নং ৪৬-৪৮ টাকা ও পোলাও চাল ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শান্তিনগর বাজারের নিয়মিত ক্রেতা শামীম আহমেদ টাইম নিউজ বিডিকে বলেন, রোজার আগের সবজির দাম ক্রেতার নাগালের মধ্যে ছিল। কিন্ত রোজা শুরুর পর থেকে দাম বাড়তে বাড়তে আকাশ ছুঁয়েছে। সবজির এ বাড়তি দাম আর কমছে না। এতে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে।

অন্যদিকে ঈদ যতই এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে মসলাম দাম। রোজার আগে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৩২-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন এর মূল্য ৪০-৪৩ টাকা। ভারতীয় পেয়াজ ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০-৪৫ টাকা, রসুন ৭০-৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০-১০০ টাকা এবং দেশি আদা ১৬০-১৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০-২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শান্তিনগর বাজারের মসলা বিক্রিতা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা পাইকারি বাজার থেকে যে দাম দিয়ে পণ্য কিনে তার সাথে অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচ যোগ করে যে দাম পড়ে তা থেকে কিছুটা লাভ করে পণ্য বিক্রি করে। ঈদকে কেন্দ্র করে মসলার দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানান তিনি।

শনিবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারের শুকনো গুড়া মরিচ ২০০ টাকা, ধনিয়া ১৮০-১৯০ টাকা, গুড়া হলুদ ১৮০ টাকা, জিরা ২৬০-৩৮০ টাকা, বড় এলাচি ২৬০০ টাকা, ছোট এলাচি ১০৮০ টাকা, দারুচিনি ২৯০-৩০০ টাকা, তেজপাতা ১৮০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৮-৪০ টাকা, দেশি আদা ১৭০-১৮০ টাকা, চায়না আদা ২২০-২৪০ টাকা, রসুন ৭০-৮০ টাকা, এক দানা রসুন ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া কালিজিরা ১৫০ টাকা, তিল ৮০-১৩০ টাকা, কিসমিস ৩৫০-৪২০ টাকা, বাদাম ৮০ টাকা, মিষ্টি সফ ১৮০ টাকা, সাদা গোল মরিচ ১২৮০-১৩০০ টাকা, কালো গোল মরিচ ৯২০ টাকা, শাহি জিরা ১৮০ টাকা, সরিষা ৮০ টাকা, মেথি ১১০-১২০ টাকা।

জায়ফল ৯৫০-১০০০ টাকা, জয়ত্রী ১৮০০-২০০০ টাকা, আলু বোখারা ৩২০ টাকা, কাঠবাদাম ৭৭০-৮০০ টাকা, রাঁধুনি ১৬০-১৮০ টাকা, মৌরি ১৮০-২০০ টাকা, পোস্তদানা ৮০০-১০০০ টাকা, হিং ৬৫০ টাকা, আদা শুট ৩৮০-৪০০ টাকা, আটমোড়া ৮০০ টাকা, কবাব চিনি ১০২০ টাকা, একাঙ্গি ৬৫০ টাকা, পিপুল ১২৮০ টাকা, রোজমেরি ৭০০ টাকা, ওরিগেনা ৭২০ টাকা এবং পাপরিকা এক বোতল ২০০-২১০ টাকা ও সিরকা ৪৫-৯০ টাকা দরে বিক্রি করছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

তবে খুচরা বাজার ঘুরে দামের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। খুচরা বাজারে মসলার বাজার বেশ চড়া। শুকনা গুড়া মরিচ ২২০-২৪০ টাকা, ধনিয়া ২২০-২৫০ টাকা, গুড়া হলুদ ২০০-২২০ টাকা, জিরা ৪৫০-৫০০ টাকা, ছোট এলাচি ১৩০০-১৩৫০ টাকা, দারুচিনি ৩২০-৩৮০ টাকা, তেজপাতা ২২০ টাকা, সাদা গোল মরিচ ১৫০০-১৬০০০ টাকা, কালো গোল মরিচ ১০০০-১০৫০ টাকা, জায়ফল পিচ ১০-১২ টাকা, জয়ত্রী ৩৬০০ টাকা, আলু বোখারা ৪৫০-৪৭০ টাকা, কাঠবাদাম ৯০০-৯৫০ টাকা মৌরি ২৫০-২৬০ টাকা দরে বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।

ঢাকা, ১৯ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর