বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে দুই দেশের ব্যবসার পরিধি আরও সম্প্রসারিত করতে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব করেছে চীন।
আজ (রোববার) পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠককালে চীনের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব দেয়া হয়।
বৈঠকে ১৯-সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। অপরদিকে, ১৩-সদস্যের চীনা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ঢাকা সফররত দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের জানান, চীন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমরা প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখব।
বাংলাদেশ এখনই এই চুক্তির ব্যাপারে আলোচনা বা সমঝোতা শুরু করবে কীনা সে ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান সচিব শহীদুল হক।
শহীদুল হক বলেন, চীনের বিনিয়োগকারীদের জন্য এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার যেই প্রক্রিয়া বাংলাদেশ শুরু করেছে তাতে চীন সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এ ব্যাপারে আগামী বছরে একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আসবে এবং আশা করা যায় এই চুক্তিতে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলে (economic zone) বড় ধরনের বিনিয়োগের বিষয়টি চীন সক্রিয় বিবেচনায় নিয়েছে বলেও চীনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
চীনের কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম পর্যন্ত সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য চীনের কাছে প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানান সচিব শহীদুল হক।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সড়ক ও রেল যোগাযোগের এই প্রস্তাবটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী দিয়েছেন এবং তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বৈঠকে অংশ নেয়া চীনা প্রতিনিধি দলটি।
সচিব জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার-চীনের অর্থনৈতিক সেতুবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নেতৃত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেছে চীন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মানে আবারও চীন তার আগ্রহের কথা জানিয়েছে। তবে, বাংলাদেশে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মানে বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত দেয়া সবগুলো প্রস্তাবই সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি, এই সমুদ্র বন্দরের নতুন স্থানের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
তিনঘণ্টার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের পরিধি আরও বাড়ানো, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সমুদ্র সহযোগিতা, জ্বালানি সহযোগিতা, কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
কেবি





