ঋণের সুদেহার ও স্প্রেড ধীরে ধীরে কমছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ২০১৫ এর জানুয়ারি শেষে ঋণের গড় সুদহার দাঁড়িয়েছে ১২.৩২ শতাংশে এবং মার্চ শেষে স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫.০৪ শতাংশ। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ে আমানতের সুদহার যে হারে কমেছে ঋণের সুদহার সে হারে কমেনি।
তিনি আরো জানান, ১৩টি ব্যাংকে এ হার এখনো ১৪ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এ ছাড়া, পাঁচটি ব্যাংকের ফেব্রুয়ারি ২০১৫ মাসে ঘোষিত কৃষি ঋণের সুদহার ১১ শতাংশের ওপর রয়েছে, যা মোটেই কাম্য নয়। ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ এবং স্প্রেড ৪ এর কাছাকাছি নামিয়ে আনার জন্যে ব্যাংক নির্বাহীদের আহ্বান জানান গভর্নর।
বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ব্যাংকার্স সভায় ড. আতিউর রহমান এ আহ্বান জানান।
সভায় গভর্নর বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আমাদের উদ্যোক্তাদের পরিশ্রম, পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সময়োচিত পদক্ষেপ ও সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় দেশের আর্থিক খাত এখনো সুদৃঢ় অবস্থানে আছে। গত পাঁচ অর্থবছরে গড়ে ৬.২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশের আশেপাশেই থাকবে বলে আশা করা যায়।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে অর্থনীতির সূচকগুলো আরো গতিশীল হবে বলে মনে করেন গভর্নর। তিনি বলেন, এরই মধ্যে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। প্রকৃত ঋণগ্রহীতা নির্বাচন করে ঋণ সম্প্রসারণের মতো পর্যাপ্ত তারল্যও ব্যাংকগুলোর হাতে রয়েছে। ফেব্রুয়ারি ২০১৫ শেষে ব্যক্তি খাতে ঋণপ্রবাহ বেড়েছে ১৩.৩৩ শতাংশ। স্বল্প সুদে বিদেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণের যোগান উদার ও সহজীকরণের ফলে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প খাতে উন্নয়ন তরান্বিত হচ্ছে। কৃষি ও এসএমই খাতে ঋণ প্রবাহ বেড়েছে।
সভায় ডেপুটি গভর্নরসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
কেএইচ





