পোশাক কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরো সময় চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বিদেশি ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আজকালের মধ্যে উন্নতি সম্ভব না। এ জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। আমরা কারখানার কর্মপরিবেশের মানোন্নয়ন ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক উদ্যোগ নিয়েছি, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে।
রোববার হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এক্সপো ফর বিল্ডিং অ্যান্ড ফায়ার সেফটি’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, কারখানা ভবন ও অগ্নি নিরাপত্তার সকল ম্যাটেরিয়ালের আমদানি শুল্কমুক্ত করা হবে, যাতে সকল কারখানা নিরাপদ হয়। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে আগামী বাজেটেই এর বাস্তবায়ন করা হবে।
কারখানাকে সম্পূর্ণরূপে কমপ্লায়েন্স করার জন্য আর যেসব বিষয় রয়েছে সেগুলো নিয়ে বিজিএমইএ, বায়ারদের সংগঠন অ্যাকোর্ড, অ্যালায়েন্সের সঙ্গে আলোচনা করে পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করে এখন বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। এ জন্য আমাদের উদ্যোক্তাদের নিয়ে গর্বিত। তবে তাজরীনের অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা ধসের পর বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি খারাপ হয়েছে। অবশ্য উন্নত দেশেও দুর্ঘটনা ঘটে। তবে সামনে এগোনোর জন্য আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি।
কারখানা পরিদর্শনের জন্য দেশি প্রকৌশলীদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিদেশি ক্রেতাদের প্রতি অনুরোধ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তোফায়েল আহমেদ দাবি করেন, রাজনীতি ও অর্থনীতি আলাদাভাবে চলতে দিলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।
শাহারিয়ার আলম বায়রদের কারখানার মানোন্নয়নের জন্য পোশাকের দাম বাড়ানোর আহ্বান জানান। শুধু শেয়ার বিল্ডিংই নয়, পোশাকের মূল্য কর্তন একটা সমস্যা। গত ৪ বছরে তৈরি পোশাক শিল্পে ২৯০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ বায়াররা পোশাকের মূল্য বৃদ্ধি করেননি। উল্টো অনেক ক্ষেত্রেই মূল্য কমানো হয়েছে। এভাবে পোশাক কারখানার মানোন্নয়ন করা যাবে না।
রায় রমেশ বলেন, তাজরিন ফ্যাশনস ও রানা প্লাজার পর তৈরি পোশাক শিল্পে বেশ বড় চ্যালেঞ্জ এসেছে। এরপর বায়াররা একের পর এক শর্তারোপ করছে। শেয়ার বিল্ডিং কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এতে শ্রমিকদের মাঝে বেকার হওয়ার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এটা ঠিক না। কারখানাকে আর কিভাবে মানসম্মত করা যায়, সে বিষয়ে ফান্ডের ব্যবস্থা করার জন্য বায়ারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রমেশ আরও বলেন, বায়াররা বাংলাদেশ থেকে আউটসোর্সিং করে বেশি মুনাফা করার জন্য। কাজেই বায়ারদের উচিত শ্রমিকদের জন্য একটি ট্রাস্টি ফান্ড গঠন করা, যাতে রানা প্লাজা, তাজরিন ফ্যাশনসের ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সহায়তা করা যায়।
বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক চুন্ন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহারিয়ার আলম, শ্রমিক নেতা রায় রমেশ, বায়ারদের জোট অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক এম রবিন এবং অ্যাকোর্ডের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
উল্লেখ্য, পোশাকশিল্পের নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বাংলাদেশে এবারই প্রথম। দু’দিনব্যাপী তৈরিপোশাক কারখানার নিরাপত্তা উপকরণের প্রদর্শনীতে ভবন নিরাপত্তা, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তামূলক উপকরণসমূহ প্রদর্শন করা হবে।
প্রদর্শনীতে আগতরা নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন উপকরণ ও এগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়া প্রদর্শনী উপলক্ষে একাধিক সেমিনার ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
[b]ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
পোশাক কারখানা নিরাপত্তায় সময় চান বাণিজ্যমন্ত্রী
পোশাক কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরো সময় চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বিদেশি ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আজকালের মধ্যে উন্নতি সম্ভব না। এ জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।





