নতুন অর্থবছরের (২০১৪-১৫) বাজেটে পরোক্ষ করের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রত্যক্ষ কর আদায়ে জোর দেয়ার সুপারিশ করেছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বণিক সমিতি এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ।
এ লক্ষে নিয়মিত করদাতাদের উপর চাপ কমিয়ে কর আদায়ের আওতা বা ট্যাক্স নেট বাড়ানোর আহ্বান জানান শীর্ষ এই ব্যবসায়ী নেতা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাজেট বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরামর্শক কমিটির ৩৫তম সভায় তিনি এসব সুপারিশ করেন তিনি।
কাজী আকরাম উদ্দিন বলেন, আমাদের নিয়মিত করদাতাদের উপর চাপ কমানো উচিত। বাজেটে কর হার না বাড়িয়ে কর আদায়ের ক্ষেত্র বাড়াতে হবে।  ভ্যাটসহ বিভিন্ন পরোক্ষ করের উপর নির্ভরশীল না হয়ে প্রত্যক্ষ কর আদায়ে জোর দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাজেটে করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগী হওয়া দরকার। এতে যারা নিয়মিত কর দিয়ে যাচ্ছেন তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে না।
এদিকে দেশের অনুন্নত অঞ্চলে কল-কারখানা করার জন্য দশ বছরের জন্য কর সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী।
এছাড়া একই বৈঠকে কর আদায়ের উপর কর্মকর্তাদের নগদ প্রণোদনা দেয়ার প্রথা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান সংগঠনটির সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমদ।
মোস্তফা আজাদ বলেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। রংপুর ও বরিশাল অঞ্চলে কল-কারখানা করার সুবিধা দেয়া হলে এসব অঞ্চলে কর্মসংস্থান বাড়বে। এতে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি ঢাকার উপর জনসংখ্যার চাপও অনেক কমবে।
এ প্রসঙ্গে শিল্পমালিক সংগঠন এফবিসিসিআই দেশের উত্তরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন উৎসাহিত করতে বিশেষ রেয়াতি সুযোগ-সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রস্তাব তুলে ধরে।
এ প্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “প্রস্তাবটি খুব ভালো ও যুক্তিসঙ্গত। তবে এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। প্রস্তাবটি আমরা জাতীয় সংসদে পাঠাবো।”
এদিকে বিনিয়োগের বিষয়ে এফবিসিসিআই’র বর্তমান সভাপতি বলেন, আমাদের দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মূল বাধা হচ্ছে দুর্বল অবকাঠামো।
এ প্রেক্ষিতে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ ব্যাংক সুদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপর্যাপ্ততা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিল্প প্লটের অপর্যাপ্ততা বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে উল্লেখ করেন কাজী আকরাম।
ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা কমাতে এফবিসিসিআই সভাপতি বাজেট বাস্তবায়নে বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহারের ওপর বেশি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে সক্ষমতা বৃদ্ধি, উৎপাদন সহায়ক ও বাস্তবায়নযোগ্য এডিপির প্রস্তাব করেন কাজী আকরাম।
এদিকে এফবিসিসিআই’র ব্যবসায়ী নেতাদের পক্ষ থেকে আমদানি শুল্ক সংক্রান্ত সাতটি, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সংক্রান্ত নয়টি এবং আয়কর সংক্রান্ত আরও ১১টি প্রস্তাব দেন তিনি। ফলে প্রাক-বাজেট বিষয়ে সবমিলিয়ে মোট ৬১৭টি প্রস্তাব দেয় ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠনটি।
কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।
এছাড়া পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট মো. আতিকুল ইসলাম, বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান, এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনসহ রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংকের সহযোগিতায় এনবিআর এবং এফবিসিসিআই যৌথভাবে এবারের এই সভার আয়োজন করে। ১৯৭৩ সাল থেকেই বাজেট বিষয়ে এ ধরনের সভার আয়োজন করা হচ্ছে।
[b]ঢাকা, ৮ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]