অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নের স্বার্থে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার আলোকে আরও বেশী মাত্রায় এ দেশগুলোর মধ্যে তথ্য ও জ্ঞান বিনিময়ের আহবান জানিয়েছেন। মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত দু’দিন ব্যাপী বৈশ্বিক সহযোগিতা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগদানকালে তিনি এ আহবান জানান।  
উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার আলোকে ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রম অভিবাসন এবং জ্ঞান ও তথ্য বিনিময়ের সম্পসারণ এ দেশগুলোর জন্য বহুমুখী কল্যাণ বয়ে আনতে পারে বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর ইফেকটিভ ডেভেলপমেনট কো অপারেশন (জী পি ই ডি সি)  কর্তৃক আয়োজিত দুদিন ব্যাপী এই আন্তর্জাতিক বৈঠকে বিশ্বের ১৩০টি দেশ থেকে আসা সরকারী, বেসরকারী, সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি সহ ১৫০০ এর বেশী প্রতিনিধি অংশ নেন। মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে গত ১৫ থেকে ১৬ই এপ্রিল এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা আগামী দিনগুলোতে বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন সহযোগিতার কার্যকারীতা বৃদ্ধির জন্য একটি যৌথ ইশতেহার এবং ২৮ টি বিশেষ উদ্যোগের অবতারণা করেন।  
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল উক্ত বৈঠকে অংশগ্রহন করেন। প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব জনাব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন  এবং সংসদ সদস্য জনাব কাজী নাবিল আহমেদ।
১৫ ই এপ্রিল বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, অরগানাইজেশন ফর ইকনমিক কো অপারেশন এন্ড ডেভেলপমেনট (ও ই সি ডি) এর মহাসচিব এঞ্জেল গুরিয়া ও মেক্সিকোর রাষ্ট্রপতি পেনা নিয়েতো উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অভ্যন্তরীণ সম্পদের যোগান বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের উদাহরণ দিয়ে বলেন যে বাংলাদেশে রাজস্ব ও মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাত ২০০৯ সালে যেখানে ছিল ১০.৫ শতাংশ, তা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৪ সালে ১৩.৫ শতাংশে উপনীত হয়েছে।  
ইতঃপূর্বে, সভার প্রথম দিন ১৫ই এপ্রিল, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী (ইউ এন ডি পি) এর প্রধান হেলেন ক্লার্ক এর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় তাঁরা বাংলাদেশে ‘International Institute on Southern Innovation’ নামে একটি দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকের সময় তাঁরা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দেশটির ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন। একই সঙ্গে তাঁরা বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা সংক্রান্ত রোড ম্যাপ নিয়ে মত বিনিময় করেন।
বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব জনাব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব জনাব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
‘Managing Diversity for Effective Development Cooperation’ শীর্ষক একটি ফোকাস সেশনে অংশগ্রহনকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জনাব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন যে বাংলাদেশে উন্নয়ন সাহায্য এখনো অনেকটাই ছোট ছোট প্রকল্পে বিভাজিত অবস্থায় রয়েছে, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এ অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান যে উন্নয়ন সাহায্যের বিভাজন রোধের জন্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি লোকাল কনসালটেটিভ গ্রুপ, যৌথ সহযোগিতা কৌশল এবং একটি উন্নয়ন ফলাফল কাঠামো দাঁড় করিয়েছে যার মাধ্যমে উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও বেশী সমন্বয় রক্ষা এবং সরকারের উন্নয়ন প্রাধান্যের সাথে সমন্বয় রক্ষা সম্ভব হচ্ছে।
অর্থনীতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব জনাব মোঃ মেজবাহ উদ্দিন ইতঃপূর্বে প্রণীত “Istanbul Programme of Action” এর আলোকে বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে কাঠামোগত ও অর্থায়নগত সীমাবদ্ধতা দূর করার আহবান জানান।  
বিভিন্ন দেশের সাংসদদের নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি সভায় অংশগ্রহনকালে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ কার্যকরী উন্নয়ন সাহায্য নিশ্চিতে সংসদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
[b]ঢাকা, ১৭ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]