বিএনপির ডাকা টানা অবরোধের ফলে কমে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি। নিস্তেজ হয়ে পড়ছে ব্যস্ততম এ বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম।
আমদানি রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দায়ী করছেন হরতাল ও অবরোধকে। অবরোধের কারণে পণ্য পরিবহন করতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। পাশপাশি রপ্তানিযোগ্য পণ্যবাহী যানবাহন যাতে অবরোধ মুক্ত রখা হয় এবং পুলিশি প্রটোকলের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নিয়োজিত মালামাল পরিবহন করা হয় এ দাবি জানিয়েছেন বন্দর ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে আখাউড়া স্থলবন্দর ঘুরে জানা যায়, ভারতের পূর্ব ৭টি রাজ্যে প্রবেশের অন্যতম দ্বার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর। ১৯৯৪ সালে চালু হয় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ স্থলবন্দরটির কার্যক্রম। এই স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন মাছ, পাথর, সিমেন্ট, ইট, বালি, শুটকি, প্লাস্টিক সামগ্রী, তুলাসহ প্রায় ৪২টি বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়। পণ্য রপ্তানি করে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে বাংলাদেশ।
বিএনপির ডাকা টানা অবরোধের কারণে দিনে দিনে আমদানি ও রপ্তানি আয় কমে যাচ্ছে। আগে প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে যেখানে ২শ থেকে ৩শ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হত। এখন সেখানে পণ্য রপ্তানি হচ্ছে প্রতিদিন ১শ থেকে ১শ ২০ট্রাক পন্য। অবরোধের কারণে পণ্য রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণে ট্রাক চালকরা পড়েছের বিপাকে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের চলতে হচ্ছে রাস্তায়।
যশোর থেকে মাছ নিয়ে আসা ট্রাক চালক রহিম মিয়া জানান, চারদিন আগে যশোর থেকে মাছ নিয়ে রওয়ানা হয়েছেন তিনি। পথে কয়েকটি জায়গায় ভাঙচুরের ভয়ে গাড়ি থামিয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে। অবশেষে ঢাকায় আসার পর অবরোধকারীরা ইট পাটকেল মেরে তার পিকআপ ভ্যানের সামনের গ্লাসটি ভেঙে দিয়েছে।
আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি কারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো.মনির হোসেন বাবুল জানান, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্ব ৭ রাজ্যে আমাদের দেশের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। টানা অবরোধে অচল হয়ে পড়েছে আখাউড়ার এ বন্দর। আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ২শ থেকে ৩শ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হতো ভারতে। এখন সেখানে অবরোধের কারণে প্রতিদিন যাচ্ছে ৭০ থেকে ৮০টি ট্রাক। খুব দ্রুত সরকার এ ব্যাপারে ফলপ্রসু কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে আমরা ব্যবসায়ীরা মারাত্মক হুমকির শিকার হবো।
আখাউড়া স্থল বন্দরের সহকারী কমিশনার নিতীশ বিশ্বাস রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘অবরোধের প্রভাব পড়েছে এ বন্দরে। এতে করে আমাদের আমদানি-রপ্তানি অনেকটা কমে যাচ্ছে। গত তিন মাসের তুলনায় এ মাসে প্রচুর পণ্য রপ্তানি হওয়ার কথা থাকলেও হরতাল ও অবরোধে তা সম্ভব হয়নি। এভাবে হরতাল ও অবরোধ চলতে থাকলে দেশের রাজস্ব আয় অনেকটা কমে যাবে।’
এদিকে, ভারতের আগরতলায় পৌষ সংক্রান্তি উদযাপন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে।
আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানীকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন বাবুল জানান, ভারতের আগরতলায় পৌষ সংক্রান্তি পালন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। তবে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে। শনিবার সকাল থেকে পুনরায় বন্দরের আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক থাকবে।
জেআই





