অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে যে জালিয়াতি হয়েছে তাতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আমরাও দোষী। যার কারণে ২৫’শ থেকে তিন হাজার কোটি টাকা পাওয়া যায়নি। তবে জালিয়াতির পরেও সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ভূমিদস্যুতা এখন ক্ষমতাশালীদের চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর যারাই ক্ষমতাশালী তারাই ভূমিদস্যু বলে মন্তব্য করলেন । সিলেটের চা বাগানের জমিজমা স্থানীয় রাজনীতিবিদরা দখল করছে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
রোববার মতিঝিলে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, রাষ্টায়ত্ত ব্যাংক জালিয়াতি হয়েছে যার দায় আমাদের সবার। এখানে অডিট বিভাগ অডিট না করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। যে কারণে চোর ধরতে দেরি হয়েছে। আর এ জালিয়াতির ফলে আমরা উপকৃত হয়েছি। কারণ আমাদের গ্যাপগুলো খুঁজে বের করে নতুন করে পরিকল্পনা করছি।
পরিবেশের ছাড়পত্রের জন্য ব্যবসায়ীদের বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়-ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা এখন প্রশাসনিক কালচার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রশাসনিক কালচারকে ‘দুষ্টু’ বলে অভিহিত করেন মুহিত। তিনি আরো বলেন, আমরা চেষ্টা করছি কিভাবে কালচারটা পরিবর্তন কর যায়।
এ সময় ব্যবসায়ীদের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাবির বিপরীতে মন্ত্রী বলেন, আমাদের আরো কিছুদিন কুইক রেন্টালের ওপর নির্ভর করতে হবে। কারণ আমরা বিদ্যুতের উৎপাদনে যে কাজ করছি তার বিশদ ফল পেতে আরো দু-এক বছর অপেক্ষা করতে হবে।
এ অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু জানান, বিসিকের জন্য বরাদ্দকৃত যেসব জমি খালি রয়েছে বা যারা জমি বরাদ্দ পেয়েও ব্যবসা করছে না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করা হবে। এ জায়গাগুলো পুনরায় অন্য শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ দেয়ার কথাও বলেন তিনি। এসময় তিনি ‘ঢাকা লেদার’ কোম্পানিকে প্রাইভেট সেক্টরে দেয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, চামড়া শিল্পের ব্যবসায়ী যারা সাভারে না যাবে তাদের সেখানকার বরাদ্দকৃত জায়গা বাতিল করার পাশাপাশি ধানমণ্ডির ব্যবসা ক্ষেত্রও বন্ধ করে দেয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় দেশের সকল ব্যবসায়ী নেতা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে তারা নিজেদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন।
এসময় তারা বেশ কিছু সুপারিশ করেন। এর মধ্যে রয়েছে- শিল্পাঞ্চলের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেয়া, পাটশিল্পের বন্ধ মিলের জায়গাগুলো অন্য শিল্পমিল স্থাপনের জন্য বরাদ্দ দেয়া, গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা দূর করা, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য কাজ করা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ৪ লেন থেকে ৬ লেনে উন্নীত করা, পরিবেশের ছাড়পত্র নিতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ করা, ঋণের সুদহার কমানো, অবহেলিত খাতগুলোতে নতুন বিনিয়োগ, অপরিকল্পিত উন্নয়ন বন্ধ করে পরিকল্পনার ভেতর দিয়ে শিল্পোন্নয়ন, দেশের ইমেজ বাড়াতে গুণগত পণ্যের মাধ্যমে ব্র্যান্ডিং, উল্লেখযোগ্য এক্সপোর্ট খাতগুলোতে প্রডাকশন কিভাবে বাড়ানো যায় তার পরিকল্পনা।
[b]ঢাকা, ৩০ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
ব্যাংক জালিয়াতির দায় নিলেন অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে যে জালিয়াতি হয়েছে তাতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আমরাও দোষী। যার কারণে ২৫’শ থেকে তিন হাজার কোটি টাকা পাওয়া যায়নি। তবে জালিয়াতির পরেও সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।





