ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের মধ্যকার সুদহারের ব্যবধানের (স্প্রেড) বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা মানেনি দেশি-বিদেশি ২০টি বেসরকারি ব্যাংক।

গত আগস্ট শেষে ৬টি বিদেশি ও ১৪টি বেসরকারি ব্যাংকের স্প্রেড ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের বেশি ছিল। সবচেয়ে বেশি স্প্রেড রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের। ব্যাংকটির স্প্রেড ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

এরপরই দ্বিতীয় অবস্থানে বিদেশি খাতের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের। ব্যাংকটির স্প্রেড ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। তবে স্প্রেড আইনি সীমার মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সব বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ আগস্ট মাসের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বিনিয়োগের প্রধান প্রতিবন্ধকতা ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার। তাই সুদহার কমিয়ে আনতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে অনেক দিন ধরে তাগাদা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কিন্তু একদিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় কমাতে না পারায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানতে পরছেনা না বেসরকারি ব্যাংকগুলো। যার কারণে বিনিয়োগ স্থবিরতায়ও সুদহার কমছে না বলছেন এ খাত সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্প্রেড সীমা ৫ শতাংশের নিচে আনতে বরাবরই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সার্বিকভাবে গড় স্প্রেড ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে।

তিনি বলেন, তবে কিছু ব্যাংকের স্প্রেড হার নির্ধারিত সীমার উপরে রয়েছে, তাদের আমরা হ্রাসের তাগিদ দিয়েছি। বারবার বলার পরও যারা এ নিয়ম মানছে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, স্প্রেড সীমা ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের ওপরে থাকা ব্যাংকগুলো কি কারেণে স্প্রেড কমাচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্ট মাস শেষে দেশি-বিদেশি ২০টি বেসরকারি ব্যাংক এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের সুদের ব্যবধান নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামাতে পারেনি।

এর মধ্যে দেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্প্রেড রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। তারা গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত নিচ্ছে গড়ে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ হারে আর ঋণ দিচ্ছে ১২ দশমিক ৮৮ শতাংশ সুদে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউনিয়ন ব্যাংকের ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এছাড়াও স্প্রেড ৫ শতাংশের উপরে রয়েছে এবি ব্যাংকের ৫ দশমিক ০৩ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংকের ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ, পূবালীর ৫ দশমিক ০১ শতাংশ, উত্তরা ব্যাংকের ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংকের ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংকের ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংকের ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৫ দশমিক ০৮ শতাংশ, এসবিএসি ব্যাংকের ৫ দশমিক ১৮ শতাংশ, মেঘনা ব্যাংকের ৫ দশমিক ২২ শতাংশ এবং এনআরবি ব্যাংকের ৫ শতাংশ ৯১ শতাংশ।

আর বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের স্প্রেড ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ, সিটি ব্যাংক এন.এ. ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অফ সিলনের ৫ দশমিক ১২ শতাংশ, ওরি ব্যাংকের ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ, এইচএসবিসি ব্যাংকের ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আগস্ট মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ঋণের ক্ষেত্রে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ হারে সুদ আদায় করেছে। আমানতের বিপরীতে সুদ দিয়েছে ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ০৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। বিশেষায়িত ব্যাংকের স্প্রেড সবচেয়ে কম মাত্র ২ দশমিক ৪২ শতাংশীয় পয়েন্ট। আমানতের বিপরীতে দিয়েছে ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ সুদ। এ খাতের ব্যাংকগুলোর ঋণের ক্ষেত্রে স্প্রেড গড় সুদহার ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ দাঁড়িয়েছে।

গত আগস্টে মাসে বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণের ক্ষেত্রে গড়ে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ হারে সুদ আদায় করেছে। আমানতের বিপরীতে দিয়েছে ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ সুদ। স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশীয় পয়েন্ট। বিদেশি ব্যাংকগুলোর স্প্রেড এখনো ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের উপরে রয়েছে। বিদেশি ব্যাংকগুলো আমানতের বিপরীতে ১ দশমিক ৮০ শতাংশ সুদ দিয়ে ঋণের বিপরীত আদায় করছে ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ সুদ। এ খাতের ব্যাংকগুলোর স্প্রেড সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।


এমএনজে