ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থীদের কাছে এবারের অন্যতম আকর্ষনে পরিণত হয়েছে লাইবা রুটি মেকার। মেলা শুরুর পর থেকেই রুটি মেকারের স্টলটিতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। দেশিয় প্রযুক্তির যাদুকরি মেশিনে নিজ হাতে প্রতি সেকেন্ডে একটি করে রুটি তৈরী করে বিস্মিত হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলায় রুটি মেকারের ৭৮ নম্বর স্টলে নিয়োজিত ছয়জন কর্মী প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে চলেছেন। কেউবা হাতে কলমে সেকেন্ডের মধ্যে একটি করে রুটি বানিয়ে দেখাচ্ছেন। কখনও দর্শনার্থীদের মধ্যে নারী-পুরুষ, ছেলে-বুড়ো সবাই নিজ হাতে যাচাই করছেন রুটি মেকারের যাদু। এমনকি তিন বছরের শিশুর হাতেও চোখের পলকেই তৈরী হয়ে যাচ্ছে শতভাগ গোলাকার একটি রুটি।

মেলায় আসা দর্শনার্থী এক তরুণী ‘লাইবা রুটি মেকার’ যন্ত্রটির হাতল ধরে চাপ দিলেন। যন্ত্রের ভেতর দেওয়া আটার খামি শতভাগ গোলাকার রুটিতে পরিণত হয়েছে! সত্যিই, এক সেকেন্ডের ব্যাপার! দর্শনার্থীদের চোখে বিস্ময়! কী করে সম্ভব হলো—সবার কৌতূহল। এর পর শুরু হলো একের পর এক প্রশ্ন। ‘দেশের পণ্য?’ ‘কে বানিয়েছে?’ ‘দাম কত?’

এদিকে স্টলের বিক্রেতা এক তরুণী উচ্চ স্বরে বলে চলেছেন, ‘এক সেকেন্ডের জাদু দেখুন। দেশের উদ্ভাবিত যন্ত্রের জাদু দেখুন। মায়ের কষ্ট কমাতে লাইবা রুটি মেকার কিনুন।’ সাথে দর্শনার্থীদের শত প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন।

দর্শনার্থীদের অনেকেই মেলায় রুটি মেকারের অর্ডার দিচ্ছেন। আবার কেউবা পরে এসে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। স্টল কতৃপক্ষ বলছে এবারের মেলায় তারা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছেন। এমনকি মেলায় আসা ঢাকার বাইরের অনেক দর্শনার্থী কুরিয়ারেও অর্ডার করছেন।

দ্রুত রুটি বানানোর এই যন্ত্রটির উদ্ভাবক হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘লাইবা রুটি মেকার বিশ্বের প্রথম বিদ্যুৎবিহীন পরিবেশবান্ধব রুটি বানানোর যন্ত্র। এই যন্ত্রে অনেক ধরনের রুটি বানানো যায়। যেকোনো বয়সের মানুষ এর মাধ্যমে অতিদ্রুত রুটি বানাতে পারবে। কাঠের এই যন্ত্র চালাতে বিদ্যুৎ লাগে না বলে সাশ্রয়ী। বৈদ্যুতিক রুটি মেকারের চেয়ে আমার যন্ত্রে রুটি বানানো সহজ ও সুবিধাও বেশি। শতভাগ প্রাকৃতিক স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকবে। ফলে দেশে-বিদেশে এর চাহিদা বাড়ছে।

হুমায়ুন কবীর আরো বলেন, এই মেশিনে তৈরী করা রুটিতে কোনো পার্শপ্রতিক্রিয়া নেই। এমনকি কোনো দূর্ঘটনার ও বিন্দু মাত্র সম্ভাবনা নেই। শুরু আটার থামি করবেন। সাইজ ভেদে মন্ড তৈরী করে চাপ দিবেন সাথে সাথে গোলাকার রুটি তৈরী হবে।

লিজা নামের এক দর্শনার্থী বলেন, আসলেই রুটি মেকার যন্ত্রটি দেখে আমি খুবই বিস্মিত হয়েছি। আগে আমাদের মা দাদিরা ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যায় করে রুটি তৈরি করতো সেই কষ্ট এখন আর করতে হবে না।

মোবারক নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, মেলায় এস যখন আমি রুটি মেকার যন্ত্রটি দেখি তখন আমি অবাক হয়ে যাই যে এটা কি করে সম্ভব। আমার খুবই ভালো লাগছে এবং এবারের মেলায় রুটি মেকারটি আমার কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষন।

নকল রুটি মেকার সম্পর্কে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমার রুটি মেকার দেখে অনেকে নকল রুটি মেকার বানিয়েছে। তারা এটি বানাতে গিয়ে ধরা খেয়েছে এবং পরে খরচ তুলতে নামমাত্র মূল্যে পণ্য বিক্রির চেষ্টা করছে। তা দিয়ে রুটি হয় না। তাদের বাতিল পণ্য বাজারে লাইবা রুটি মেকারের সুনাম নষ্ট করছে।’

হুমায়ুন কবীর আরো বলেন, ‘দেশের শীর্ষ সংবাদপত্রগুলোতে আমাকে ও আমার উদ্ভাবিত লাইবা রুটি মেকার নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। টিভিগুলোও আমাকে ঘিরে খবর প্রচার করেছে। সুনাম একদিনে রচিত হয় না। দুর্নামে সময় লাগে না। গ্রাহকদের কাছে আহ্বান, বিভ্রান্ত হবেন না।’

অনলাইনে লাইবা রুটি মেকার সম্পর্কে জানতে প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট (www.rutimaker.com) এবং ফেসবুক পেজ (www.facebook.com/laaibahrutimakerfactory) ভিজিট করতে আহ্বান জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। এ ছাড়া গুগল, ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবেও ‘Laaibah Ruti Maker’ লিখে খোঁজ করলে বিস্তারিত জানা যাবে।

উল্লেখ্য, যন্ত্রটির উদ্ভাবক মো. হুমায়ুন কবীরের বাড়ি মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার বুনাগাতি গ্রামে। ২০১১ সালে যন্ত্র বানানোর কাজে হাত দেন হুমায়ুন। অনেক চেষ্টায় আজকের এই আধুনিক পরিবেশবান্ধব রুটি মেকার উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মাননা পেয়েছেন এবং পেটেন্ট রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

এমএম