দেশেই বিশ্বমানের শিল্প প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে বেসরকারি শিল্প কারখানার গবেষণা ও উন্নয়নখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বরেণ্য অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেন, বিদেশ থেকে প্রযুক্তি ও পরামর্শক আমদানির পরিবর্তে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। এ লক্ষ্যে তারা একটি ইন্ডাউমেন্ট ফান্ড বা বৃত্তি তহবিল গঠনের তাগিদ দিয়েছেন।
বাংলাদেশ অর্থনীতি শিক্ষক সমিতির দু’দিন ব্যাপী জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ তাগিদ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে শুক্রবার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।
বাংলাদেশ অর্থনীতি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এটিএম জহুরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু তাহের শেখ। এতে অন্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মুিহবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন, এনসিসি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আমিন বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা গুণগত শিল্পায়নের প্রচেষ্টা জোরদারের জন্য দেশিয় শিল্প-কারখানার সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সংযোগ স্থাপনের পরামর্শ দেন। তারা বলেন, জীবন ঘনিষ্ঠ শিক্ষার প্রসারে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোয়ালিটি এসিওরেন্স সেল স্থাপন করা প্রয়োজন। একই সাথে তারা জাতীয় পর্যায়ে কোয়ালিটি এসিওরেন্স অ্যান্ড অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা জোরদার হলে রাজনৈতিক সহিংসতা অনেকাংশে কমে যাবে বলে তারা মন্তব্য করেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গৃহিত কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচির কারণে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারণে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোতে লাখ লাখ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে বাংলাদেশে একজন লোকও চাকুরি হারায়নি।
বরং দেশে নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে গ্রামের নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত শ্রেণির জনগণের মধ্যে মঙ্গা বা অভাব নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আমির হোসেন আমু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের জনবান্ধব অর্থনৈতিক কর্মসূচির ফলে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে।
তিনি দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, গুণগত শিক্ষা, গড় আয়ু বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের প্রশংসনীয় অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠির অপরাজনীতির ফলে দেশের অর্থনীতি সাময়িকভাবে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও এর বিরুদ্ধে সামাজিক ধিক্কার ও প্রতিরোধ গড়ে ওঠছে বলে তিনি জানান।
[b]ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এসএমআর[/b]
অর্থনীতি
বিশ্বমানের শিল্প প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ
দেশেই বিশ্বমানের শিল্প প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে বেসরকারি শিল্প কারখানার গবেষণা ও উন্নয়নখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বরেণ্য অর্থনীতিবিদরা।





