[b]ঢাকা:[/b] চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাকে অর্থনীতিবিদরা উচ্চাভিলাষী বলেছিলেন। তাদের আশংকা ছিল, রাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনীতিকে ভোগাবে। ফলে পূর্বের অর্থবছরের আদায়ের উপর প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভবপর হবে না। ইতোমধ্যে অর্থবছরের মাসের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি বিশ্লেষণে তা টের পাওয়া গেছে।
ফলে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা থেকে সরে আসছে অর্থ মন্ত্রণালয়। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে লক্ষ্য অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে না বলে মনে করছে সরকার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে লক্ষ্যমাত্রা ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ কমিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বাজেটে বেঁধে দেয়া লক্ষ্য অনুযায়ী রাজস্ব আহরণে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বাকি সময়ে আরো ১০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাথমিক হিসাবে দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অন্তত সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে।
২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ২০১৩-১৪ অর্থবছর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা। উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ লক্ষ্যমাত্রা ১৬ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে আনার কথা ভাবছে সরকারের রাজস্ব আহরণকারী সংস্থাটি। এর মধ্যে শুল্ক খাতে লক্ষ্যমাত্রা কমছে ৪ হাজার ২৩০ কোটি, ভ্যাটে ৬ হাজার ২৮ কোটি, আয়করে ৫ হাজার ৭০৯ কোটি ও অন্যান্য করে ১১৮ কোটি টাকা।
জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে ১৩ জানুয়ারি এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। এনবিআরের পক্ষ থেকে রাজস্ব আহরণের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয় বৈঠকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পুনর্নির্ধারণের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে সামষ্টিক অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আহরণে। ফলে নতুন করে লক্ষ্য নির্ধারণ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়। তবে এনবিআরের পক্ষ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের অনুরোধ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী রাজস্ব আহরণের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে একটি সারসংক্ষেপও প্রস্তুত করেছে সংস্থাটি। অনুমোদনের জন্য শিগগিরই তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেন, অতীতে রাজস্ব আদায়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা এতোটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। কেবল গত ডিসেম্বরেই রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। ব্যবসায়ীদের বলতে পারছি না যে, রাজস্ব দেন। গত বছরের তুলনায় আয়কর রিটার্নও অন্তত এক লাখ কম দাখিল হয়েছে।
 কম হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা বেড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এনবিআরের পরিসংখ্যান ও গবেষণা শাখা সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ছিল ৫৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। অথচ আহরণ হয়েছে ৪৯ হাজার ৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুল্কে ঘাটতি ২ হাজার ২৮ কোটি, ভ্যাটে ২ হাজার ৮৪৪ কোটি, আয়করে ৩ হাজার ৪৩৩ কোটি ও অন্যান্য আয়করে ২০৮ কোটি টাকা।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]