সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগে রের্কড সৃষ্টি হয়েছে। গত বছর এ খাতে নিট বিনিয়োগ হয়েছে ১১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা বেশি। সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে বিনিয়োগকারীদের মূল ও সুদ পরিশোধের পর রাষ্ট্রীয় ব্যয় নির্বাহে অবশিষ্ট যে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয় তা নিট বিনিয়োগ বিবেচিত।
জাতীয় সঞ্চয় পরিদফতরের তথ্যমতে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। বিক্রি হয়েছে ২৪ হাজার ৩০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
একক মাস হিসাবে শুধু জুনেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৬৫৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার। যা আগের মে মাসের তুলনায় ৪৬৩ কোটি টাকা বেশি। এ সময়ে মূল পরিশোধ হয়েছে ৯৬৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা এবং সুদ পরিশোধে গেছে ৭২৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে ঝুঁকি থাকা ও ব্যাংকিং খাতে আমানতের সুদ কমতির কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। যে কারণে এ খাতের বিনিয়োগের রের্কড ভঙ্গ করেছে। বিদায়ী ২০১৩-১৪ অর্থবছরের সঞ্চয়পত্র খাতে ৮ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
এই রের্কড পরিমাণ সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ার কারণ বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারে অস্থিরতা ও ব্যাংকে আমানত রাখার প্রতি গ্রাহকের আস্থাহীনতাসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে সঞ্চয়পত্র কেনায় ঝোঁক বাড়ছে। এ ছাড়া উচ্চসুদ হারে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে মন্দা ভাব বিরাজ করছে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এ ধরনের উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সাহস দেখাচ্ছেন না।
অন্যদিকে ব্যাংকগুলোতে সুদহার বেশি হলেও মেয়াদি আমানতের সুদের হার ক্রমশ কমছে। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, উচ্চ সুদের আমানত তাদের কাছে অনেকটা বোঝা হয়ে পড়েছে। একটা সময় ছিল যখন ১০০ টাকা আমানত পেতে আমানতকারীদের ১৪ টাকা মুনাফা দিতে হয়েছে। এখন সেখানে বিনিয়োগ চাহিদা না থাকায় তা ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা বেশি লাভের আশায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন।
ঢাকা, ৬ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এমআর





