তিতাস, বাখরাবাদ, পিডিবিসহ বিভিন্ন সংস্থায় দুই হাজারের বেশি শিল্পকারখানার গ্যাস, বিদ্যুৎ-সংযোগের আবেদন পড়ে আছে।
ব্যাংকঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করে ব্যবসায়ীরা বসে আছেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হোসেন খালেদ এ তথ্য দিয়ে এসব কলকারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই মিলনায়তনে গতকাল শনিবার আয়োজিত এক সেমিনারে হোসেন খালেদ এসব কথা বলেন। ডিসিসিআইয়ের সভাপতি এ সময় আরও বলেন, আবার গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপও পাওয়া যাচ্ছে না।
গ্যাসের চাপ ১৫ পিএসআই হওয়ার কথা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২-৪ পিএসআই। তবে দাম দিতে হচ্ছে পুরোটাই। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ‘সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় শিল্প খাতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ম তামিম।
হোসেন খালেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ-বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আগামী পাঁচ অর্থবছরে ১২ হাজার ৮৫৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে সরকার।
এর মধ্যে প্রথম তিন অর্থবছরে দেশীয় গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ৬৫৫ মেগাওয়াট। শেষের তিন অর্থবছরে আছে আমদানি করা কয়লা থেকে ৪ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা।
এ তথ্য উল্লেখ করে অধ্যাপক ম তামিম প্রশ্ন করেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোথা থেকে গ্যাস আসবে? একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ভবিষ্যতের গ্যাস-সংকট মোকাবিলায় বিদেশ থেকে তরলীকরণ গ্যাস (এলএনজি) আমদানির পরিকল্পনা করছে। এতে করে প্রতি ইউনিট (মেগা জুল) গ্যাসের দাম যেখানে ১ দশমিক ৮ ডলার আছে, সেখান থেকে ৩ দশমিক ১ ডলারে গিয়ে দাঁড়াবে।
তাতে শিল্পের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।
ভবিষ্যতের গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা মোকাবিলায় এলএনজির দর সমন্বয়, কয়লা আমদানির জন্য বন্দর, রেল যোগাযোগ ও মজুত জায়গা এবং ব্যবস্থাপনা উন্নত করাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক ম তামিম।
তিনি বলেন, ১২ হাজার ৮৬৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২ হাজার ১০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ এবং বিদ্যুৎ বিতরণ ও সরবরাহের উন্নয়নে ১ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন হবে।
তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, ‘পরিকল্পনা হচ্ছে ভবিষ্যৎ দেখা। মূল হচ্ছে কৌশল। দরকার হলে আমরা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সবার সঙ্গে বসে এদিক-সেদিক করব। আসল কথা হচ্ছে, সাহস রাখতে হবে। তবেই নতুন নতুন দুয়ার খুলবে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে আমরা ১০০টি গ্যাসের কূপ খনন করার পরিকল্পনা নিয়েছি। এর মধ্যে ৫০টি নতুন ও ৫০টি পুরোনো কূপের উন্নয়ন।
তা ছাড়া আমরা মিয়ানমার ও ত্রিপুরা থেকে গ্যাস আমদানির বিষয়ে পরিকল্পনা করেছি। কথাবার্তা হচ্ছে।’
শিল্পপতিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘ভবিষ্যতে শিল্পগুলোকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এসইজেড) নিয়ে যান। আমরা সেখানে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ দেব।তাহলে আমাদের জন্য সহজ হয়।
’ তিনি বলেন, ‘জমি কিনে গ্যাস, বিদ্যুৎ-সংযোগ নিয়ে বর্তমানে কারখানা করা কঠিন। তাই আমরা চাচ্ছি, যাঁরা শিল্প করতে চান, তাঁদের এসইজেডে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য রহমান মুরশীদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বদরূল ইমাম, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক শামসুল আলম, বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি ইমরান করিম প্রমুখ।
এসএম





