এবার ফেব্রুয়ারি-মার্চের বৃষ্টিতে চোখ মেলেছে চায়ের নতুন কুঁড়ি। চা বাগানের সবুজ কুঁড়ি সিলেটের প্রকৃতিকে আরো মনোহর করে তুলেছে।বৃষ্টির ভালোবাসা চা-গাছের শরীর জুড়ে প্রাণসঞ্চার করেছে। এতে চা শ্রমিক-মালিকরা দারুণ খুশি। এমনি এক আনন্দঘন পরিবেশে সিলেটের বিভিন্ন বাগানে বছরের প্রথম চা-চয়ন শুরু হয়েছে। তাই বাগানে বাগানে চলছে উত্সবের আমেজ।

চা বাগান সংশ্লিষ্টরা আগাম বৃষ্টির জন্য অধীর আগ্রহে থাকেন এই সময়ে। এ বছর ছয় দিনে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ১৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত সিলেটের চা-বাগানে রেকর্ড করা হয়েছে। সাধারণত জানুয়ারিতে চা-বাগান মালিকরা বৃষ্টির দেখা না পেলে ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়েন। এবার এই সময়ে বৃষ্টির পরশ বাগানের জন্য আশীর্বাদ নিয়ে এসেছে। ভালো ফলনের জন্য ফেব্রুয়ারি ও মার্চের প্রথমার্ধের বৃষ্টি চা-গাছের জন্য খুবই প্রয়োজন।

সিলেট-তামাবিল সড়কের পাশে হাবিব নগর চা-বাগানের ম্যানেজার হুমায়ূন কবির বলেন, এবারের বৃষ্টি তাদেরকে দুশ্চিন্তামুক্ত করেছে। আনন্দ উল্লাসে গতকাল চা-চয়ন শুরু হয়েছে। হাবিবনগর চা-বাগানের শ্রমিকরাও প্রতিবছরের মতো চা-চয়ন উত্সব শুরু করে পূজা-পার্বণের মধ্য দিয়ে।

এদিকে গত রবিবার থেকে সিলেটের প্রাচীন চা-বাগান মালনি ছড়াতেও আনন্দঘন পরিবেশে বিশিষ্ট শিল্পপতি টি-প্লান্টার রাগীব আলী তার বাগানে চা-চয়নের উদ্বোধন করেন। এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে তাতে ২০১৬ সালে দেশে ৬৬ মিলিয়ন কেজি চা উত্পাদন আশা করছেন শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ টি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রকল্প পরিচালক হারুন রশীদ।

বাংলাদেশ চা উত্পাদনে নতুন রেকর্ড গড়েছে ২০১৫ সালে। এ সময়ে দেশে চা উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ কোটি ৬০ লাখ কেজি। কিন্তু চা উত্পাদিত হয়েছে ৬ কোটি ৭৪ লাখ কেজি। ২০১৪ সালে এর পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৩৮ লাখ কেজি। এক বছরের ব্যবধানে উত্পাদন বেড়েছে ৩০ লাখ কেজিরও বেশি।

বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রের (বিটিআরআই) পরিচালক ড. মাঈন উদ্দিন আহমেদ জানান, অনুকূল আবহাওয়া, উত্পাদন এলাকার সম্প্রসারণ, ক্লোন গাছের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং চা বোর্ডের নজরদারির ফলে গত মৌসুমে চা উত্পাদন বেড়েছে।

শ্রীমঙ্গলের গুপ্ত টি হাউসের মালিক ভোলা দাশগুপ্ত বলেন, ৭টি ব্রোকার হাউসের মাধ্যমে সারাদেশে চা পাতা বিক্রি হয়। তবে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী নিম্নমানের চা আমদানি করে দেশীয় চায়ের সঙ্গে নিম্ন মানের চা-মিশিয়ে প্যাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি করে, যা দেশের বাজার নষ্ট করছে।

১২ বছরে ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ
সূত্র মতে চা উত্পাদন বাড়াতে আগামী ১২ বছরে ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিটিআরআই। প্রকল্পগুলোর আওতায় সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও পঞ্চগড় জেলার ৬৪৪০ হেক্টর পতিত জমিতে আরো ১০৬টি চা বাগান তৈরি করা হবে।

 

এআই