রাশিয়ায় চিংড়ি রফতানির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের রাশিয়াকে শিগগিরই চিঠি পাঠাবে সরকার। চলতি সপ্তাহেই মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেয়া হবে। রাশিয়া চিংড়ি নেয়া বন্ধের প্রায় পাঁচ মাস পর এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য দেন মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক।এর আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার এ নিকোলেভ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। রফতানি অব্যাহত রাখতে সকল সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন দেশটির রাষ্টদূত।
মন্ত্রী বলেন, একটি শর্তের কারণে গত অক্টোবর থেকে রাশিয়ায় চিংড়ি রফতানি বন্ধ আছে। বাংলাদেশ গ্রীষ্মপ্রধান দেশ, রাশিয়া শীতপ্রধান দেশ। গ্রীষ্মপ্রধান দেশ হিসেবে আমাদের চিংড়িতে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ একটু বেশি।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার নির্ধারিত মান অনুযায়ী চিড়িংর বেশির ভাগ আইটেমে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারবে না। কোনো কোনো আইটেমে খুবই সামান্য পরিমাণে থাকতে পারবে।
মন্ত্রী বলেন, এ শর্ত সংশোধন করে চিংড়ি রফতানি অব্যাহত রাখতে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হবে। তিনি এ চিঠি তার সরকারের কাছে পৌঁছে দেবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে একটি প্রতিনিধি দল রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে চিংড়ি রফতানির ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন।
ছায়েদুল হক বলেন, আমি আশাবাদী রাশিয়ায় চিংড়ি রফতানি অব্যাহত থাকবে। চারটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যরা রাশিয়ায় চিংড়ি রফতানির যোগ্য এ কথাও রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়েছে। এ জন্য যা যা করা দরকার তা করবেন বলে আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের বাজার দখল করছে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। তারা রাশিয়ায় তাদের পণ্য প্রদর্শনের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চলতি বছর থেকে রাশিয়ায় বাংলাদেশী দূতাবাসের মাধ্যমে সেখানে চিংড়ির চাহিদা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, রাশিয়া আন্তর্জাতিক মান মানে না। তারা নিজেদের মান নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের নির্ধারিত মান নিয়ন্ত্রণ করেই রাশিয়ায় চিংড়ি পাঠাতে হবে।
মন্ত্রী এ বিষয়ে অগ্রগতির উল্লেখ করে জানান, বাগেরহাট সি ফুড ইন্ডাসস্ট্রিজ লিমিটেডকে গত ৬ ফেব্রুয়ারি সাময়িক স্থগিত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে রাশিয়ান ফেডারেশন।
চিংড়ি রপ্তানিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী সাংবাদিককে বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ৮০ হাজার মে.টন হিমায়ীত খাদ্য রফতানি হয়ে থাকে। এর মধ্যে শুধু চিংড়ি রপ্তানি হয়ে থাকে ৫০ হাজার মে.টন।
এর মধ্যে রাশিয়ায় রফতানি হয় ২০১০-২০১১ অর্থবছরে ১ হাজার ২১০ কোটি টাকার চিংড়ি, ২০১১-২০১২ অর্থবছরে ১ হাজার ৯২৯ কোটি, ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৬ কোটি এবং ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে ১ হাজার ৪১৬ কোটি টাকার চিংড়ি রফতানি করা হয়েছে।
[b]ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
চিংড়ি রফতানি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে রাশিয়াকে শিগগিরই চিঠি
রাশিয়ায় চিংড়ি রফতানির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের রাশিয়াকে শিগগিরই চিঠি পাঠাবে সরকার। চলতি সপ্তাহেই মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেয়া হবে। রাশিয়া চিংড়ি নেয়া বন্ধের প্রায় পাঁচ মাস পর এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।





