সরকার সিগারেট কোম্পানিকে সুবিধা দিলেও বিড়ি কোম্পানিগুলোকে দিচ্ছে না। প্রতি বছর বিড়ির উপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হলেও সিগারেটে কমানো হয়। ফলে এই শিল্পে জড়িত লাখো শ্রমিকের জীবন-জীবীকা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
তাই আগামি বাজেটে বিড়ির ওপর আর শুল্ক না বাড়িয়ে সিগারেটের শুল্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে সমন্বয় করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বিড়ি শিল্প মালিক সমিতি।
সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ দাবি জানায় তারা। এনবিআর ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংগঠনের সাথে এই প্রাক-বাজেট আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
আলোচনায় বাংলাদেশ বিড়ি শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি শ্রী বিজয় কৃষ্ণ দে বলেন, ঐতিহাসিকভাবেই বিড়ি শিল্প বৈষম্যের শিকার। ২০০৩ সালে এ শিল্পে ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। আর একই সময়ে সিগারেটের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ।
এসময় তিনি বলেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিড়ি শিল্পের ওপর অনেক বেশি বৈষম্য করা হয়েছে। এবছরের বাজেটে বিড়ির মূল্য স্তর বৃদ্ধির ফলে শুল্ক বৃদ্ধি হয়েছে ২৩ শতাংশ। আর সিগারেটের ওপর নামমাত্র মূল্যস্তর বৃদ্ধির নামে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।
এছাড়া চলতি অর্থবছরে বিড়ির ওপর অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ বাড়ানোর কারণে এ শিল্পে বর্তমানে অগ্রিম আয়কর দিতে হয় ৬১ শতাংশ। কিন্তু তামাক জাতীয় পণ্য হওয়ারর পরও সিগারেটের ওপর কোনো ধরনের অগ্রিম আয়কর দিতে হয় না। বিড়িতে লাভের সীমারেখা ৪ টাকা ৩৭ পয়সা ও সিগারেটের ওপর ১৫ টাকা ৭৫ পয়সা পর্যন্ত নির্ধারণ করেও বিড়ি শিল্পের ওপর বৈষম্য করা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি।
পরে রেশম শিল্প মালিক সমিতির পক্ষ থেকে রেশমের আমদানী শূল্ক ৩৫ শতাংশ প্রত্যাহার, বাংলাদেশ পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতির পক্ষ থেকে ভ্যাট অব্যাহতি দিয়ে প্রতি জোড়া পাদুকা ১২০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।
সভায় এনবিআর সদস্য ফরিদ উদ্দীন বলেন, আসলে আমাদের অনেক সমস্যা রয়েছে। যার অনেক কিছুই আমরা জানি না। যদি দেখেন কেউ অসাধু উপায়ে সরকারকে ফাঁকি দিয়ে এবং আপনাদের ক্ষতি করে ব্যবসা করছে তাহলে তা আমাদেরকে অবহিত করবেন। আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
[b]ঢাকা, ২১ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
বিড়ি শিল্পে বৈষম্যে দুর করার দাবি
সরকার সিগারেট কোম্পানিকে সুবিধা দিলেও বিড়ি কোম্পানিগুলোকে দিচ্ছে না। প্রতি বছর বিড়ির উপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হলেও সিগারেটে কমানো হয়। ফলে এই শিল্পে জড়িত লাখো শ্রমিকের জীবন-জীবীকা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।





