বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, আমাদের শিল্পখাত পশ্চাৎপদ। ভারি শিল্প দেশে এখনো বিকাশ লাভ করেনি। এর পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে পুঁজি ও কারিগরি সামর্থের অভাব। মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশিক্ষণ একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, ভারি শিল্প বিকাশ লাভ না করলেও আমরা থেমে থাকিনি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজির মাধ্যমে সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের সাধারণ মানুষ অনেক উদ্ভাবনী কাজ করছে। পড়াশোনা শিখে এখন তরুণরা শুধুমাত্র চাকরির পেছনে ছুটছে না। উদ্যোক্তা হবার চেষ্টা করছে।
আতিউর আরো বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি বা গ্রোথ ইঞ্জিন হিসেবে এসএমই সারাবিশ্বেই স্বীকৃত। আর এই গ্রোথ ইঞ্জিনকে কাজে লাগিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দরকার এসএমই ব্যাংকিং।  আমরাও চাই ব্যাংকগুলো নতুন ব্যবসায়িক মডেল হিসেবে ‘এসএমই ব্যাংকিং’-কে অগ্রাধিকার দিবে। তারা নিজেরা মুনাফা করবে, এসএমই উদ্যোক্তাদেরও বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিবে।
বিশ্বব্যাংকের কথা উল্লেখ করে আতিউর বলেন, বিশ্বব্যাংক বলেছে, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে প্রতিবছর ১৫ লাখ মানুষকে কাজ দিতে হবে। এসএমই ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বেশি বেশি নতুন উদ্যোগ সৃষ্টি করা গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি টেকসই অর্থনীতির দিকে দেশকে এগিয়ে নেয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সৃজনশীল খুদে উদ্যোক্তা ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্যে বিশেষ শিল্প পার্ক স্থাপন করা দরকার। এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করেন তিনি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভবিষ্যতে জাতীয় অর্থনীতিতে এসএমই ও নারী উদ্যোক্তাদের ভূমিকা নিঃসন্দেহে আরো বাড়বে বলে আশা করেন গভর্ণর।
তিনি বলেন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে ডিসিসিআই’র সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এজন্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে ১০০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করার কাজ এগিয়ে চলেছে। অর্থনীতির মূল স্রোতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে এসএমই খাতের পুনঃঅর্থায়ন স্কীমের ১৫ শতাংশ অর্থ নারী উদ্যোক্তাদের জন্যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ বরাদ্দ থেকে তাদের স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গত চার বছরে ৯৬১২ জন নারী উদ্যোক্তার অনুকূলে প্রদত্ত এসএমই ঋণের বিপরীতে ৭৫৪ কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আতিউর বলেন, দেশে একটি এসএমই ব্যাংকিং-বান্ধব প্রতিবেশ সৃষ্টিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এ কারণেই এসএমই ব্যাংকিংয়ের জন্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশকিছু প্রণোদনা দিয়েছে। অশ্রেণীকৃত এসএমই ঋণের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণে সুবিধা দেয়া হয়েছে। ক্যামেলস রেটিং নিরূপণে ব্যাংকগুলোর এসএমই অর্থায়নের সাফল্যকে একটি নিয়ামক হিসেবে ধরা হচ্ছে। এসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন ব্যয় হ্রাসে আংশিক ঋণ জামানত স্কীম গ্রহণের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উদ্যোগে এ ধরনের ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কীম চালু করা যায় কিনা সে বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর  মোঃ আবুল কাসেম, সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও বিশিষ্ট ব্যাংকার  খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. সৈয়দ মোঃ ইহসানুল করিম, বিআইবিএম-এর মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
[b]ঢাকা, ৬ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]