গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে পণ্য দিতে পারছে না বেশ কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। গ্রাহকদের চাপে অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রধান পলাতক রয়েছেন। গ্রাহকদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অনেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থের খোঁজে নেমেছে বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)। গতকাল এমন ৩০ ই-কামার্স প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইতোমধ্যে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধানদের কাছে এ তথ্য চাওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের হিসাব খোলার পরিচিতি, কারা টাকা জমা দিয়েছেন ও কারা উত্তোলন করেছেন তার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের হিসাব তলব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএফআইইউর কর্মকর্তারা। বিএফআইইউ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ই-ভ্যালি, সিরাজগঞ্জ শপ, নিডস, কিউ কম, ২৪টিকেটি, ই-অরেঞ্জ, বুম বুম, থলে, উই কম, আনন্দের বাজার, আকাশ নীল, প্রিয়শপ, ব্রাইট হ্যাশ, অ্যানেক্স ওয়ার্ল্ড ওয়াইড, ধামাকা শপিং, আলাদিনের প্রদীপ, আদিয়ান মার্ট, আমার বাজার, আস্থার প্রতীক, বাংলাদেশ ডিল, বাড়ি দোকান ডট কম, শ্রেষ্ঠ ডট কম, অ্যামস বিডি, নিরাপদ, আলিফ ওয়ার্ল্ড, দালাল গ্লাস, ইনফিনিটি মার্কেটিং লি:, ওয়ালমার্ট, আলেশা মার্ট ও দারাজ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে অস্বাভাবিক ছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রি করার কথা বলে অগ্রিম অর্থ নিয়েছিল উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু একপর্যায়ে এসে তারা গ্রাহকদের পণ্য সরবরাহ করতে পারেনি। আবার গ্রাহকদের অর্থও ফেরত দেয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিভিন্ন নীতিমালা দিয়েও অগ্রীম অর্থ নেয়া ফেরাতে পারেনি এমন অভিযোগ ছিল কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে গ্রাহকরা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করতে থাকে। এমনি পরিস্থিতিতে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ইতোমধ্যে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইভ্যালি, রিং আইডি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা, ২৪ টিকিট, সহজ, এসপিসি ওয়ার্ল্ড লিমিটে, সিরাজগঞ্জ শপ, কিউক, নিরাপদ শপ, র্যাপিড ক্যাশ, থলে ও ইউকম ডটকমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংক হিসাব তলব করা প্রতিষ্ঠানগুলো ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোথাও অর্থ লুকিয়ে রাখা হয়েছে কি না তা তদারকি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক লেনদেনের হালনাগাদ লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিএফআইইউ থেকে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এবিএস