প্রতিবছর ঈদ এলেই ছোট-বড় সবার কাছে নতুন টাকার নোটের কদর বেড়ে যায়। বড়দের কাছে ছোটদের চাওয়া-পাওয়া নতুন পোশাকের পাশাপাশি চাই ঈদের সেলামিও। আর যদি হয় নতুন টাকায়, তবে ঈদের আনন্দ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ছোটদের এমন আবদার মেটাতে তাই অনেকেই এখন ছুটছেন নতুন নোট সংগ্রহে।

এ ছাড়া জাকাত ও ফিতরা দিতেও অনেকেই নতুন টাকার নোট সংগ্রহ করছেন। এদিকে ঈদের দিনক্ষণ যতোই ঘনিয়ে আসছে ততোই ব্যাংকের কাউন্টারগুলোতে ভিড় বাড়ছে। ঈদের আগেভাগেই নতুন টাকা সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন অনেকেই। কেউ সংগ্রহ করছেন ব্যাংকের কাউন্টারে গিয়ে।

আবার কেউ কর্মঘণ্টা বাঁচিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকায় নতুন নোট সংগ্রহ করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস ও কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা এবং নতুন টাকা বিক্রির কয়েকটি স্পট ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়।

ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন মূল্যমানের নতুন নোটের বিনিময় মূল্যও বাড়ে। এবারো ২, ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নোটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মতিঝিলের বট গাছের নিচে দুই টাকার নোটের একটি বান্ডিল (১০০টি) বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। এ ছাড়া পাঁচ টাকার নোটের বান্ডিল ৫৩০-৫৫০ টাকা, ১০ টাকার বান্ডিল এক হাজার ৫০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা, ২০ টাকার বান্ডিল দুই হাজার ১০০ টাকা ও ৫০ টাকার বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে পাঁচ হাজার ৩০০ টাকায়। গুলিস্তান ও সদরঘাটে নতুন নোটের বিনিময় মূল্য আরো বেশি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সারা বছরই নতুন নোটের চাহিদা থাকে। তবে ঈদ এলেই চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবার সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট ছাড়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এবার ঈদে সাড়ে ২১ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট ও কয়েন বাজারে ছেড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব নোটের বিনিময় আরো আগে থেকেই শুরু হয়েছে। আর এটা চলবে ঈদপূর্ব ব্যাংকিং কার্যদিবস পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিলসহ বিভিন্ন শাখা অফিস এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের ২০টি শাখা থেকে নতুন নোট সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একজন একবারে চার হাজার টাকার নতুন নোট বদলে নিতে পারবেন। এর পাশাপাশি তিনি আরো এক হাজার ৫০০ টাকার কয়েনও সংগ্রহ করতে পারবেন। সব মিলিয়ে সাড়ে ৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করতে পারবেন একজনেই।

ব্যাংক ও নতুন টাকা বিক্রির কয়েকটি স্পট ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাংকের কাউন্টার থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে নতুন টাকা সংগ্রহ করছেন সাধারণ মানুষ।  তবে এসব লাইনে মৌসুমি টাকা ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। যাদের জন্য সাধারণের লাইনে দাঁড়াতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এদিকে ঈদে সাধারণ মানুষের চাহিদা মেটাতে গুলিস্তানসহ রাজধানীর অন্তত ৭টি স্থানে নতুন টাকার পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। এসব জায়গায় এরই মধ্যে নতুন টাকার নোটের ব্যবসা জমতে শুরু করেছে। ঈদের কারণে পুরনো ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও যোগ দিয়েছেন এ ব্যবসায়।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কিছু অসাধু কর্মকর্তা নতুন নোটের ব্যবসার সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত। তারা রাতের আঁধারে এ শ্রেণীর ব্যবসায়ীর কাছে টাকা হস্তান্তর করছেন। আবার মধ্যস্থতাকারী একশ্রেণীর দালাল চক্রের মাধ্যমেও তারা নোট বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বট গাছের নিচেই নতুন টাকা দেদার বিক্রি হচ্ছে। পুরুষের পাশাপাশি মহিলাও এতে যোগ দিয়েছেন।

এ ছাড়া গুলিস্তান হলের সামনে, সদরঘাট, ফার্মগেট, মিরপুরসহ রাজধানীর আরো কিছু স্থানে নতুন নোটের কেনাবেচা হচ্ছে। এর মধ্যে গুলিস্তানেই সবচেয়ে বেশি দোকান রয়েছে।
উল্লেখ্য, এবার নতুন এ টাকা পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ১৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায়।

ঢাকা, ২২ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর