গত সাত বছর ধরে পেঁয়াজ বীজের চাষ করছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মহিষালবাড়ি এলাকার তরুণ পেঁয়াজ বীজ চাষী আবদুল হান্নান। এ বছরও আট বিঘা জমিতে তার পেঁয়াজ বীজ রয়েছে।
তা সত্ত্বেও পেঁয়াজ চাষের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হচ্ছে তাকে। কারণ আগাম বৃষ্টি ও শিলার কারণে তার স্বপ্ন এখন ভূলুণ্ঠিত। এই আট বিঘা জমি থেকে তার চার মণ বীজও পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সম্প্রতি রাজশাহী অঞ্চলে দুই দফা বৃষ্টি ও শিলার কারণে তার পেঁয়াজের ফুলে পোকা ধরেছে। ফলে নিশ্চিত ফলন বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তার খেত। অথচ এই জমিতে তিনি ইতিমধ্যেই চার লাখ টাকা খরচ করে ফেলেছেন। বিনিয়োগ করা এ টাকা তোলার দুশ্চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়েছেন চাষী আব্দুল হান্নান।
এই দুর্দশা যে শুধু হান্নানের একা তা কিন্তু নয়, তার মতো রাজশাহী অঞ্চলের আরো শত শত চাষীর স্বপ্নগুলো এখন ফিকে হয়ে এসেছে। তারা দিন কাটাচ্ছেন চরম অনিশ্চয়তায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক যুগ থেকে রাজশাহী অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পেঁয়াজ বীজ চাষ। এ অঞ্চলে প্রতিবছরই বাড়ছে পেঁয়াজ বীজের চাষ। বিশেষ করে জেলার গোদাগাড়ী, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, চারঘাট ও বাগমারা উপজেলায় ঘটেছে পেঁয়াজ বীজ চাষে নীরব বিপ্লব।
এ ছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন বীজ কোম্পানির পক্ষ থেকেও এ অঞ্চলে প্রদর্শনী প্লট করে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করা হয়। জাতীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ বীজের আট ভাগ উৎপাদিত হয় এ জেলা থেকে। পেঁয়াজ বীজ চাষ লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলের চাষীরা একে অন্যতম অর্থকরী ফসল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। একযুগে পেঁয়াজ বীজ চাষে লাভবানও হয়েছেন অসংখ্য কৃষক। তাই এটি এখন রাজশাহী অঞ্চলের চাষীদের কাছে ‘কালো সোনা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
কিন্তু এ বছর বৈরি আবহাওয়ায় ম্লান করে দিয়েছে সেই সুখকর ইতিহাস। সম্প্রতি দুই দফায় ঘটে যাওয়া শিলাবৃষ্টি ও আগাম কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বীজের খেত। আগের বছরগুলোতে পেঁয়াজ বীজ খেতে থাকতেই বিভিন্ন বীজ কোম্পানির প্রতিনিধিরা এ অঞ্চলের বীজ কেনার জন্য আসতে শুরু করলেও এবার কোথাও দেখা মিলছে না তাদের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর তিন হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ হয়েছে। কিন্তু গত ৬ মার্চের হঠাৎ আগাম কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বীজ খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে পেঁয়াজ বীজ চাষকে একটি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে নিয়েছিলেন জেলার দুর্গাপুর উপজেলার হরিরামপুর গ্রামের যুবক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, থোকা চাষে উৎপাদন ব্যয় বেশি। তাই ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে চার বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম। ঠিকমতো ফসল ঘরে তুলতে পারলে ঋণ পরিশোধ করেও দুই লাখ টাকা লাভ হতো। কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সব শেষ হয়ে গেলো।
এ সম্পর্কে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, রাজশাহীর অতিরিক্ত উপপরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, আগাম কালবৈশাখীতে রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও পুঠিয়া উপজেলার পেঁয়াজ বীজ খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কিছুটা আগে হলেও পর্যায়ক্রমে পরিপক্ক খেত থেকে ফসল কেটে নেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এমআইএস।





