বাণিজ্যিক মিশনকে সম্প্রসারণের লক্ষে চীন, জাপান ও ভারতের বাণিজ্যিক মিশনগুলোতে কমার্শিয়াল কাউন্সিলর পদকে উন্নীত করে ইকোনমিক মিনিস্টার পদ করার সুপারিশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
জাতীয় সংসদ ভবনে বৃহস্পতিবার কমিটির ১০ম বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়।
নতুন এই পদ সম্পর্কে কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক মিশনগুলোতে আমাদের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর পদে একজন ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করতেন।
কিন্তু এতে একটি সমস্যা হলো এ সব দেশের সঙ্গে কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি বা আলোচনার সময় ওই দেশের সরকার পর্যায়ের ব্যক্তিদের পদ মর্যাদার সমান কমার্শিয়াল কাউন্সিলর পদটি ছিল না।
এ ক্ষেত্রে অনেকেই কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলোচনা করতে রাজি হতো না। এ সমস্যা সমাধানে আমরা প্রথমে ভারত, চীন ও জাপানের বাণিজ্যিক মিশনে কমার্শিয়াল কাউন্সিলর পদটি উন্নীত করে ইকোনমিক মিনিস্টার করছি।’
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ইকোনমিক মিনিস্টার শব্দটির জন্য অনেকেই এই পদটিকে মন্ত্রী পদমর্যাদার ভাবতে পারেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই পদটি হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সরকারের প্রশাসনিক পদবি ও অন্যান্য পদমর্যাদার ভিত্তিতে।
যেমন বিদেশী মিশনগুলোতে আমাদের যে সব রাষ্ট্রদূত আছেন তাদের কেউ মন্ত্রী পদমর্যাদার, কেউ সিনিয়র সচিব আবার কেউ সচিব পদমর্যাদার। দেশে যার যে পদ তাকে সেই পদমর্যাদাই দেওয়া হয়ে থাকে। ঠিক ইকোনমিক মিনিস্টার পদটিও একই রকম হবে।’
কমিটির সভাপতি বলেন, ‘আজকের বৈঠকে ইস্তাম্বুলে নতুন বাণিজ্যিক মিশন খোলার ব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়েছে। তা ছাড়া চলতি অর্থবছরে সরকারের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে।’
চলমান অবরোধে কী পরিমাণ রফতানি আয় ব্যাহত হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে সভাপতি বলেন, ‘আজকের বৈঠকে এ বিষয়ে কিছু আমরা জানতে পারিনি। আগামী বৈঠকে মন্ত্রণালয় এ সব বিষয়ে কমিটিকে অবগত করবেন এবং সমস্যা উত্তরণে কী করা যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে।’
কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, মো. মোতাহার হোসেন, নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, মো. ছানোয়ার হোসেন, মো. মনজুরুল ইসলাম লিটন এবং লায়লা আরজুমান বানু অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে বৈদেশিক বাণিজ্য মিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অব্যবহৃত জায়গাকে হিমাগার নির্মাণের জন্য সুপারিশ করে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এমকে





