রাজধানীতে নিত্যপণ্যের দাম আকাশ ছুঁই ছুঁই। চাল-আটা, শাক-সবজি, মাছ-মাংসসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে।

এসব জিনিসপত্রের দাম আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। দিশেহারা হয়ে পড়েছে দিনমজুর ও সাধারণ মানুষ। তিন বেলা পেটপুরে খেতে নুণ আনতে পান্তা ফুরয় যাদের তাদের জন্য এখন স্বামী-স্ত্রী ও পরিবার নিয়ে দু’বেলা পেটপুরে খাওয়া যেন  ''মরার উপর খাড়ার ঘা''

লাগামহীন দামে দিশেহারা রাজধানীতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা। তাদের অভিযোগ বাজার তদারকি না থাকায় এবং ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট যোগসাজশে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন ইচ্চেমতো ।

শনিবার রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এসব জিনিসপএের বাড়তি দাম। বাজার করতে আসা বেসরকারি এক চাকরিজীবীর সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, ''ভাত দে হারামজাদা নইলে মানচিএ খাব’’ আমাদেরও যেন দিনে দিনে সেই অবস্থা।

ঢাকা শহরের যেন কোনো অভিভাবক নেই- এমন মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, যে যার মত করে লুটপাট করছে। সুতরাং বাঁচতে হলে রাজধানী ছেড়ে চলে যেতে হবে। দিন দিন পরিস্থিতি এমন কঠির পর্যায়ে চলে যাচ্ছে যে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকটাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

মধ্যবিত্ত আয়ের আরেক ক্রেতার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বাজারে সব ধরনের মাছ ও সবজির সরবরাহ অনেক। পাইকারী বাজারেও দাম স্বস্তিদায়ক। অথচ খুচরা বাজারে আসলেই দাম বেড়ে যায়। বাজারের বিক্রিতেরা সিন্ডিকেট করে আমাদের পকেট থেকে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে কালো বেগুন ২০ টাকা বেড়ে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। সাদা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। শিম ২০০ টাকা, হাইব্রিড টমেটো ১২০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০-৫৫ টাকা, কচুরলতি ৭০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা, ঝিঙ্গা ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, করলা ৬৫ টাকা, কাঁকরোল ৫৫ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ছোট ৩৫ টাকা, বাঁধাকপি ছোট ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, পালং শাক আঁটিপ্রতি ২০ টাকা, লালশাক ২০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এদিকে মুদি পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে আটার দাম ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়ে ৩২ থেকে ৩৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বাজারে মোটা চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা কমলেও চিকন চাল এখনো বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ছোলা ৮৫ টাকা, দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা, ভারতীয় মুগ ডাল ৯০ টাকা, মাষকলাই ১২৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২০ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই ২৮০-৪০০ টাকা, সরপুঁটি ৩৮০-৪৫০ টাকা, কাতল ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২৫০-৩০০ টাকা, চাষের কৈ ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১২০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, আকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা।

মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। এছাড়া লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা, দেশি মুরগি প্রতি পিস ৪৫০ টাকা, পাকিস্তানি লাল মুরগি প্রতি পিস ২৫০ টাকা, গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৫০০ টাকা ও খাসির মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকায়।

নিত্যপন্যের দামের এমন লাগামহীন উর্ধগতির ব্যাপারে জানতে চাইলে একজন বিক্রেতা বলেন, তাদের কিছু করার নেই পথে পথে চাঁদাবাজি। ঢাকা শহরে কোন সবজি আসতে পথে অনেকগুলো জায়গায় পুলিশসহ ক্ষমতাসীন চক্রের চাঁদাবাজির কবলে পড়তে হয় তাদের। তাই শেষমেষ দাম বাড়ানো ছাড়া তাদের আর কোন গতি থাকে না।

বাজার তদারকিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল আরো আন্তরিক হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ ক্ষমতাসীন দলের যারাই চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট চক্রের সাথে জড়িত থাকুন না কেন তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হোক এবং সাধারণ মানুষকে দুবেলা দুমুঠো খেয়ে পড়ে বাঁচার সুযোগ দেয়া হোক এটাই সবার প্রত্যাশা।

এএস