নির্ধারিত সময়ে নবায়ন ফি না দেয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে ৪৬ হাজার বেনিফিশিয়ারি ওনার (বিও) অ্যাকাউন্ট। বিলম্ব ফি দিয়েও আর এসব অ্যাকাউন্ট চালু করা যাবে না। বিভিন্ন হাউস থেকে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে শেয়ার সংরক্ষণকারী কোম্পানি সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডে (সিডিবিএল) এ তালিকা পাঠানো হয়েছে। সিডিবিএল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, বিও নবায়নের শেষ সময় ছিল ৩০ জুন। কিন্ত ব্রোকারেজ হাউসগুলো বিনিয়োগকারীদের ২৫ জুন পর্যন্ত সময় দেয়। সর্বশেষ হিসাবে দেশের শেয়ারবাজারে বিও অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ লাখ ৪১ হাজার।
সূত্র জানায়, বর্তমানে বিও অ্যাকাউন্টের নবায়ন ফি ৫০০ টাকা। এর মধ্যে সিডিবিএল ১৫০ টাকা, ব্রোকারেজ হাউস ১০০ টাকা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ৫০ টাকা এবং বিএসইসির মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ২০০ টাকা জমা হয়। প্রতি বছর ৩০ জুনের মধ্যে এ টাকা সিডিবিএলে জমা দিতে হয়।
২০১০ সালের জুন মাসে বিএসইসি বিও হিসাব নবায়নের সময় পরিবর্তন করে বার্ষিক ফি প্রদানের সময় জুন মাস নির্ধারণ করে দেয়। বিও নবায়ন ফি ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়। এরপর ২০১১ সালের ১৮ এপ্রিল বিএসইসির জারি করা সার্কুলারে ৩০ জুনের মধ্যে বিও অ্যাকাউন্ট নবায়ন বাধ্যতামূলক করা হয়।
সিডিবিএলের তথ্যানুসারে, সারা দেশে সাড়ে ২৯ লাখ বিও অ্যাকাউন্টের মধ্যে ঢাকায় ২২ লাখ এবং ঢাকার বাইরে সাড়ে ৭ লাখ। কিন্তু গত জানুয়ারি শেষে পাওয়া যায় ১১ লাখ বিও অ্যাকাউন্ট। এগুলোতে শেয়ার আছে এবং নিয়মিত লেনদেন হয়। এ ছাড়া ৯ লাখ বিও অ্যাকাউন্টে কখনো শেয়ার থাকলেও জানুয়ারিতে শূন্য হয়ে যায়। ১২ লাখ বিও অ্যাকাউন্টে কখনই
কোনো শেয়ার ছিল না। এসব বিও অ্যাকাউন্ট সাধারণত আইপিওর জন্য ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে ঢাকায় বিও অ্যাকাউন্টের জন্য মেশিন রিডেবল হিসাব ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু প্রায় এক-চতুর্থাংশ অ্যাকাউন্টের মেশিন রিডেবল তথ্য নেই।
২০০৯ সালের জুন পর্যন্ত বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ। কিন্ত ২০১০ সাল শেষে তা ৩৩ লাখ ছাড়িয়ে যায়। আর এ প্রবণতা রোধে বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক ও বিও অ্যাকাউন্টে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সার্টিফিকেট দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ঢাকা, ৯ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর





