প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা না থাকলে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। ফলে বাজেট বাস্তমুখি হবে না বলে মনে করেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।
আজ (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ সরকারের ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন-পরবর্তী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটির সভাপতি শফিউল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব বলেন।
মহিউদ্দিন বলেন, এবারের বাজেট নিয়ে মিশ্র মন্তব্য করা যেতে পারে। এফবিসিসিআই এটাকে ব্যবসাবান্ধব বাজেট বা অতি উচ্চবিলাসী বাজেট এর কোনটা বলবে না। বাজেটের কিছু দিক আছে যা দেশের জন্য খুবই কল্যাণ বয়ে আনবে আবার কিছু দিক ব্যবসা ও দেশের জন্য মঙ্গলজনক নাও হতে পারে।
তিনি বলেন, এফবিসিসিআই-য়ের টিম সম্পূর্ণ বাজেট পর্যালোচনা করে দেখবে এবং আগামী শনিবার গণমাধ্যমকে এ ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ মতামত দিবে।
প্রতি বছর বাজেটের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে না পারায় সংশোধিত বাজেট করতে হয় – উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন,এরফলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সরকারকে এদিকে নজর দেয়ারও আহবান জানান এই শীর্ষ ব্যবসায়ী।
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার ব্যাপারে তিনি বলেন, বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। অথচ দেশে রফতানি আয় ও রেমিটেন্স উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ফলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার কতটুকু সক্ষম হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
এছাড়া সরকার বাজেটের বিশাল একটা অংশ ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পূরণ করবে – জানিয়ে তিনি আশঙ্কা করেন ব্যাংকের উপর এমন নির্ভরশীলতা উৎপাদনশীল খাতকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে।
এদিকে, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে অবকাঠামো খাতে বরাদ্ধ বাড়ানোয় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এতে করে দেশে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বাড়বে এবং কর্মসংস্থান প্রক্রিয়া গতিশীল হবে।
এছাড়া, তৈরী পোষাক খাতে উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করায় উৎপাদন ব্যায় কমে যাবে। ফলে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে বলে মনে করেন তিনি।
তবে ব্যাক্তিগত করমুক্তি সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং ব্যক্তি অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বার্ষিক টার্নওভার সীমা ৩৬ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ টাকা করার সুপারিশ জানান এই ব্যবসায়ী নেতা।
এদিকে, প্রস্তাবিত বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব বলে অভিহিত করেছে ঢাকা চেস্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রী (ডিসিসিআই)।
বাজেট পরবর্তি তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, বাজেটে অবকাঠামো খাতে ব্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশে প্রাইভেট এবং বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে। এছাড়া জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দেয়ার প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে। ফলে কস্ট অব এনার্জি কমে যাবে। ব্যবসায়ীরা এতে লাভবান হবে বলে মনে করেন তিনি।
কেবি





