কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কৃষিঋণ বিতরণ কম হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে দেশের ব্যাংকগুলো ৯০৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করেছে, যা গত অর্থবছরের জুলাই মাসে ছিল ৯৮১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
সে হিসাবে জুলাই মাসে কৃষিঋণ বিতরণ কমেছে ৭৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এ সময়ে ১০টি ব্যাংক এক টাকাও কৃষিঋণ বিতরণ করেনি। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে ঋণ বিতরণ বাড়লেও ৭৬ শতাংশ বিতরণ করা হয়েছে শহরাঞ্চলে। গ্রামাঞ্চলে এসএমই ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ২৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ও আর্থিক সেবাভুক্তি বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে দেশের ব্যাংকগুলো ৯০৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করেছে, যা গত অর্থবছরের জুলাই মাসে ছিল ৯৮১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে জুলাই মাসে কৃষিঋণ বিতরণ কমেছে ৭৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা। জুলাই মাসে বিদেশী খাতের ৬টি ও বেসরকারী খাতের ৪টি ব্যাংক কৃষি খাতে কোন ঋণ বিতরণ করেনি।
দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত করতে যে নতুন ব্যাংকগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়েছিল তার মধ্যে ৪টি ও বেসরকারী খাতের একটি ব্যাংক কোন ঋণ বিতরণ করেনি। ব্যাংকগুলো হলো-ব্যাংক আল-ফালাহ, সিটি ব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ফারমার্স ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই শেষে রাষ্ট্রীয় ও বিশেষায়িত খাতের ব্যাংকগুলো একত্রে এ খাতে বিতরণ করেছে ৩৩০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪২৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ দিয়েছে ৪৮৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৫৩৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
অন্যদিকে বিদেশী খাতের ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করেছে ৮৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে জুলাই শেষে বাণিজ্যিক
ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯০৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রামে বিদেশী ব্যাংকগুলোর কোন ঋণ না দেয়া এবং বিশেষায়িত ব্যাংক ও অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনামূলক কম ঋণের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে (জানুয়ারি-জুন) এসএমই খাতে মোট ২ লাখ ৬১ হাজার ১৮ জন উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৪৭ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে শিল্প খাতে ঋণ গেছে মাত্র ১২ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা যেখানে ব্যবসা খাতে উদ্যোক্তারা ঋণ নিয়েছে ৩০ হাজার ৫০৬ টাকা আর সেবা খাতে গেছে ৩ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা, যা সারা বছরের লক্ষ্যমাত্রার ৫২ শতাংশ।
এর মধ্যে শহর এলাকায় বিতরণ হয়েছে ৩৫ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা। আর গ্রামাঞ্চলে গেছে মাত্র ১১ হাজার ২৫২ কোটি টাকার ঋণ। অর্থাৎ মোট বিতরণ হওয়া ঋণের ৭৬ শতাংশই শহরাঞ্চলে গেছে। আর বাকি ২৪ শতাংশ গেছে গ্রামে।
ঢাকা, ৩১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমআর





