বেশকিছু পরিবর্তন আনার পর রোববার জাতীয় সংসদে পাস হতে যাচ্ছে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট। শনিবার পাস হয়েছে অর্থবিল। প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু সংশোধনী আনবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে করমুক্ত আয়ের সীমা ২ লাখ ২০ হাজার থেকে বেড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা হতে পারে। এছাড়া আমদানি পর্যায়ের শুল্ক কাঠামোতেও কিছু পরিবর্তন হতে পারে বলে জানা গেছে।
৫ জুন ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সংসদে দীর্ঘ আলোচনা করেন সংসদ সদস্যরা। এ ছাড়া ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদরা সংসদের বাইরে আলোচনা করেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এনবিআর এবং অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কর সুবিধার জন্য দেন-দরবার করেছেন। সব মিলে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার পর আগামীকাল রোববার বাজেট পাস করা হবে।
জানা গেছে, অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে কোনো ঘোষণা না থাকলেও দুটি ক্ষেত্রে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকতে পারে। চলতি অর্থবছর (২০১৩-১৪) শেয়ারবাজার, প্লট, ফ্ল্যাট ক্রয় এবং বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রয়েছে। কিন্ত তাতে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। এজন্য আগামী অর্থবছর বন্ডের মাধ্যমে কালো টাকা সাদার সুযোগ বন্ধ করা হচ্ছে।
তবে ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ১৯-এর ইইইইই ধারা অনুযায়ী প্লট ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া একই অধ্যাদেশের ১৯-এর বিবিবিবিবি ধারা অনুযায়ী যে কেউ যে কোনো খাতে নিয়মিত করের সঙ্গে অতিরিক্ত আরো ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ সুযোগও অব্যাহত থাকবে বলে এনবিবিআর সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের ওপর ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করমুক্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যেও এ বিষয়টি উল্লেখ থাকবে।
এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে জমিজমা বিক্রির ক্ষেত্রে গেইন ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এক্ষেত্রেও সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। যেমন প্রস্তাবিত বাজেটে গেইন ট্যাক্স প্রতি বর্গফুটের হিসাবে ধার্য করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে তা বর্গমিটার হিসেবে ধরার সিদ্ধান্ত পাস হতে পারে।
বাড়ির মালিকদের বাড়ি ভাড়ার টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা নেয়ার ক্ষেত্রে যেন কোনো জটিলতা না থাকে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দিতে পারেন।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে, যা প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার ঘোষণা রয়েছে। এছাড়া কর কাঠামোয়ও আসছে কিছু পরিবর্তন। এর মধ্যে আমদানি পর্যায়ের শুল্ক কাঠামোয় দু-একটি পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
পুঁজিবাজারে মূলধনী মুনাফায় করারোপের শর্ত শিথিল করা হচ্ছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশের ওপর কর রেয়াতি সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বাড়িভাড়া নেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক আপাতত করা হচ্ছে না।
প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের ক্যাপিটাল গেইনের ওপর ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৩ শতাংশ এবং ২০ লাখের বেশি আয়ের ওপর ৫ শতাংশ করারোপের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। এ নিয়ে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
জানা গেছে, সংশোধনীতে মূলধনী মুনাফা ১০ লাখ থেকে উন্নীত করে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এই বিধান কার্যকর হলে শেয়ার ব্যবসা করে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত মুনাফা পেলে তাকে কোনও কর দিতে হবে না। এর বেশি মুনাফা হলে তাকে কর দিতে হবে। করহার হবে ২ শতাংশ। অন্যদিকে, মুনাফার পরিমাণ ৫০ লাখ টাকা হলে কর দিতে হবে ৩ শতাংশ হারে।
এ ছাড়া পুঁজিবাজারের লভ্যাংশের আয়ের সীমা বাড়ানো হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে লভ্যাংশ আয় করমক্ত ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে অর্থমন্ত্রী ১৫ হাজার টাকার প্রস্তাব করলেও তা ২০ হাজার টাকা করা হচ্ছে।
বাজেট ঘোষণায় বাড়িভাড়া মাসিক ২৫ হাজার টাকার বেশি হলে ব্যাংকে চেকের মাধ্যমে পরিশোধের বাধ্যবাধকতার বিধান করা হয়। সংশোধনীতে বাধ্যবাধকতার শর্ত প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
জানা গেছে, নিয়মিত ট্যাক্স ২৫ শতাংশের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ অর্থদন্ড দিয়ে জমি এবং ফ্যাট ক্রয়ে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে। প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল ফোন সেট আমদানিতে ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ও ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়।
তবে বাজেট-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চূড়ান্ত বাজেটে এআইটি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া আমদানি শুল্ক বিদ্যমান ১০ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে।
ঢাকা, ২৮ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর





