তৈরি পোশাকশিল্পে কারখানা মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সব ধরনের সমস্যা ও সংকট সমাধানে চলতি মাসের মধ্যেই একটি কমিটি গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
একই সঙ্গে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে জিএসপি কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেধে দেয়া সময়ের মধ্যেই জিএসপি ফিরে পাওয়ার জন্য যাবতীয় কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ক প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এ কমিটির কাছে শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষই তাদের বিভিন্ন অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং তাদের নিজ নিজ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে পারবেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকরা এখন এখানে সেখানে নালিশ না করে এই কমিটির কাছে নালিশ করতে পারবেন।
তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কমিটির নাম এবং সদস্য সংখ্যা কত হবে তা জানাতে পারেননি বাণিজ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কমিটির নাম এখনও ঠিক করা হয়নি। তবে এপ্রিল মাসের মধ্যেই চূড়ান্তভাবে সবকিছু ঠিক করা হবে।
রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন চালুর প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিক কল্যাণ সমিতির আইনের মধ্যে সমন্বয় করে সংশোধন করা হবে। এ ব্যাপারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মজীনাও একমত পোষণ করেছেন।
মন্ত্রী জানান, পোশাকশ্রমিক বাবুল আখতারের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, তা ওঠিয়ে নেয়া হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ইতিমধ্যে আমরা দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মপরিবেশের উন্নতি করতে পেরেছি।
প্রসঙ্গেক্রমে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মার্কিন কংগ্রেসমেন শ্রমিক নির্যাতনের কথা জানিয়ে বিজিএমইএ-এর কাছে যে চিঠি দিয়েছেন, তা বাস্তবসম্মত নয়। বর্তমানে দেশে তৈরি পোশাক কারখানায় কোনো সংকট নেই। শ্রমিক নির্যাতনেরও কোনো খবর এ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এদিকে মজীনা বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পোশাক শিল্পের সংস্কার নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে। এতে চমৎকার কিছু বিষয় ওঠে এসেছে। “মন্ত্রী জানিয়েছেন, ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন আইন সংশোধনে রয়েছে। টিকফা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে মূলকথা হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
[b]ঢাকা, ১ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]