শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় স্থাপিত বিসিক শিল্পনগরিতে ৪ হাজার ২শ’ শিল্প ইউনিট উৎপাদনরত আছে। এগুলোতে প্রায় ৫ লাখ ৪ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। শুধুমাত্র ২০১২-১৩ অর্থবছরে শিল্পনগরির বিভিন্ন কারখানায় ৩৬ হাজার ৯৭ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে শতকরা ৫৮ ভাগ রফতানিযোগ্য পণ্য। শিল্পনগরিগুলো থেকে সরকার এক বছরে প্রায় ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিল্পমন্ত্রী মঙ্গলবার বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) আয়োজিত ‘বিসিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান। রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
আমির হোসেন আমু বলেন, পাকিস্তান সৃষ্টির দশ বছর পর পূর্ব-পাকিস্তানের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন ইপ্সিক তথা বর্তমানের বিসিক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্থানীয় উন্নয়নের এ দর্শন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রত্যেক জেলায় একটি করে থানা ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) স্থাপন করেছেন।
এসব টিটিসি’র আওতায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পখাতে প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা সেবা বাড়িয়ে দেশে দক্ষ জনবল তৈরি করা সম্ভব। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষিত জনবল রপ্তানি করে রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। তিনি পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে শিল্পায়নে কার্যকর অবদান রাখতে বিসিকের সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কার, জনবলের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তা সেবার আধুনিকায়নের পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে বিসিকের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমতে শুরু করেছে। বিসিকের ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে দেশের বিভিন্ন এলাকার শিল্প সম্ভাবনা যাচাই করে বাস্তবসম্মত কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি। তিনি পোল্ট্রি ও ফিসারিজ শিল্পখাতে বিসিকের কার্যক্রম প্রসারের পরামর্শ দেন।
তিনি বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ আশ্রয়ী, অসাম্প্রদায়িক ও বিজ্ঞানমনস্ক একটি সম্পূর্ণ মানবিক সমাজ হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের প্রায় ২ কোটি মানুষ স্বকর্মে (ঝবষভ-বসঢ়ষড়ুবফ) নিয়োজিত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের জন্য তাদেরকে শিল্প উৎপাদনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এ লক্ষ্যে তাঁরা বিসিকের আওতায় ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।
বিসিকের হাত ধরে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পখাতের বিকাশ ঘটেছে উল্লেখ করে তারা অন্যান্য শিল্পখাতেও এর অবদান বাড়ানো জরুরি প্রয়োজনে বলে মন্তব্য করেন। তারা প্রয়োজনে বিসিক আইনের সংশোধন করে এর কর্মক্ষমতা প্রসারের ওপর গুরুত্ব দেন।
শিল্পসচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্ এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি। এতে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য উজ্জল বিকাশ দত্ত এবং হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, এফবিসিসিআই’র সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহম্মেদ, বিসিক চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বরেণ্য অর্থনীতি ও পরিকল্পনাবিদ, চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতা, ব্যাংকার, শিল্প উদ্যোক্তা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
[b]ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
৫ লাখেরও বেশি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে বিসিক
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় স্থাপিত বিসিক শিল্পনগরিতে ৪ হাজার ২শ’ শিল্প ইউনিট উৎপাদনরত আছে। এগুলোতে প্রায় ৫ লাখ ৪ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।





