২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। এ বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ হচ্ছে ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা। এটা জিডিপির ৫ শতাংশ।
বিশাল বাজেট। ঘাটতিও বিশাল। এই ঘাটতির একটি বৃহৎ অংশ মেটানো হবে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে। এতে অবশ্য দেশের বেসরকারি খাত ব্যাংক ঋণ থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে পুরোপুরি। কিন্ত তাতে কী, ঋণ করে ঘি খাও।
বিদেশী সাহায্য প্রাপ্তিতে ঘোর অনিশ্চয়তা, ব্যাংক থেকে অধিক হারে কর্জ নেয়া ও জনগণের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা চাপানোর মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।
এবার বাজেট ঘাটতি রেকর্ড ছুঁয়েছে। এক যুগেরও বেশি সময় পর আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ ভাগ অতিক্রম করল। বাজেট ঘাটতি বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে একটি বিশাল আকারের এডিপিকে (বার্ষিক উন্নয়ন কমসূচি)। আগামী অর্থবছরের জন্য এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে পরামর্শ করে এডিপির আকার প্রাক্কলন করা হয় ৭৯ হাজার ৩১ কোটি টাকা।
কিন্ত বুধবার তা এক হাজার ২৮৪ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়। এডিপির আকার বেড়ে যাওয়ার কারণে আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি ৫ দশমিক ১ ভাগ হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানায়, হঠাৎ করে এডিপির আকার বৃদ্ধি করার কারণে পুরো বাজেট ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হতে পারে। আমাদের কাছ থেকে পরামর্শ ছিল আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের এডিপির আকার যেন কোনোভাবেই ৭৯ হাজার কোটি টাকার বেশি না করা হয়। কিন্ত এ কথা শেষ পর্যন্ত রাখা হয়নি।
ফলে আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা সম্ভব হবে না। এটি ৫ ভাগ অতিক্রম করে যাবে।
প্রধানত: চারটি উৎস থেকে এ ঘাটতি পূরণ করা হবে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ বাবদ ১৮ হাজার ৬৯ কোটি টাকা, বৈদেশিক অনুদান বাবদ ৬ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, ব্যাংকিং খাত থেকে ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা ও ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে কোটি টাকা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। ব্যাংক বহির্ভূত খাতের মধ্যে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা ও অন্যান্য খাত থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৫৫ হাজার ৩২ কোটি টাকা। এটা ছিল জিডিপির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
বাজেট ঘাটতি পূরণে বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে বৈদেশিক ঋণ বাবদ ১৪ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা, বৈদেশিক অনুদান বাবদ ৬ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা, ব্যাংকিং খাত থেকে ২৫ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা ও ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে ৭ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ব্যাংক বহির্ভূত খাতের মধ্যে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা ও অন্যান্য খাত থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা।
বিশাল ব্যয়ভার সামাল দিতে কর আদায়ের দিকেই বেশি জোর দিয়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
প্রস্তাবিত বজেটের মূল লক্ষ্য হবে বর্তমানে অনসৃত রাজস্ব ও মুদ্রা নীতি কলা-কৌশলের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। এ বিষয়ে রাজস্ব খাতে সংস্কারের কথা উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
নতুন ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে মোট খরচ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ২০ কোটি টাকা। এতে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৫শ ৩০ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপি’র আকার ধরা হয়েছে ৮০ হাজার ৩০ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি থাকছে ৬৭ হাজার ৪শ ৯৮ কোটি টাকা। ভর্তুকি ধরা হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
[b]ঢাকা, ৫ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
বিশাল বাজেটে রেকর্ড ঘাটতি
২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। এ বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ হচ্ছে ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা। এটা জিডিপির ৫ শতাংশ। বিশাল বাজেট। ঘাটতিও বিশাল।





