বাংলাদেশে চলমান অবরোধের কারণে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা ব্যাপকহারে কমে গেছে। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতাল ও অবরোধের কারণে এবার পর্যটন মৌসুমে এই শিল্পে ৮০ কোটি থেকে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হোটেলগুলো বলছে, অবরোধের কারণে গতমাসের তুলনায় এ মাসে তাদের অতিথিদের সংখ্যা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কম।
আর এতে পর্যটনের মৌসুমে হোটেলগুলো বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আর অগ্রিম বুকিংয়ের ৬০ শতাংশ বাতিল হয়েছে।
সেখানকার বড় বড় হোটেলগুলো বলছে, তাদের ১০ শতাংশের বেশি অতিথি এখন নেই, যেখানে গত মাসেও তাদের ৮০-৯০ শতাংশ রুমই ভর্তি ছিল।
কক্সবাজারের লনং বিচ হোটেলের হেড অফ অপারেশন্স মোহাম্মদ তারেক বলছিলেন, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সবচাইতে বেশি মানুষ বেড়াতে যান কক্সবাজারের।
এখানকার সবচাইতে বড় আয়ের উৎসই পর্যটন।অবরোধে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কক্সবাজারে পর্যটকরা যেতে পারছেন না।সেই সাথে নিরাপত্তার অনিশ্চয়তাও রয়েছে পর্যটকদের মধ্যে।
মি: তারেক বলছেন, হোটেল চালানোর জন্য নিয়মিত খরচ কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল বা জেনারেটর চালানোর জ্বালানি ইত্যাদির খরচও উঠে আসছে না।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড 'দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পর্যটন শিল্পের অচলাবস্থা ও করণীয়' বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়্।
এ সময় বক্তরা বলেন, এখন টানা অবরোধের কারণে পর্যটন খাতে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট এক প্রকার বন্ধ হয়ে আছে। এভাবে হরতাল অবরোধ চলতে থাকলে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে ফেলবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও টানা অবরোধে দেশের যে অবস্থা তাতে এ শিল্প ধ্বংসের পথে। অন্য শিল্প দেরিতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পর্যটন সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিতে পড়েছে।
ট্যুর অপারেটরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) পরিচালক তৌফিক রহমান বলেন, অবরোধ-হরতালের কারণে টুরিস্টরা বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে আসছেন না। বছরের শুরুতেই রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ অগ্রিম বুকিং বাতিল হয়েছে। আমরা ধারণা করছি মার্চ পর্যন্ত এটি ৭৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে।
সঙ্কট হয়েছিল উল্লেখ করে বক্তারা দেশের এ সম্ভাবনাময় শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
এছাড়া, গত ৩১ শে ডিসেম্বর হরতালের কারনে থার্টিফার্ষ্ট নাইটের উৎসব-উদ্দীপনায়ও ভাটা পড়েছিল।। হোটেল ব্যবসায়ীরা বলেন, বছরের শেষ ও প্রথম দিনে হরতালেই পর্যটন শিল্পে ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে পাঁচশ কোটি টাকা।
তাই এ শিল্পকে বাঁচানোর জন্য রাজনীতিবীদদের প্রতি আহবান জানান পর্যটন শিল্পে জড়িত ব্যক্তিরা।
ই্আর





