সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকা স্টক এক্সেচেঞ্জে (ডিএসই) পিই রেশিও ২.৩৯শতাংশ বেড়েছে। আগের সপ্তাহে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৬.৪৭ পয়েন্ট। এ সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬.৮৬পয়েন্টে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে পিই বেড়েছে ০.৩৯ পয়েন্ট বা ২.৩৯ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষনে দেখা যায়, আগের সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে মোট টার্নওভারের পরিমান বেড়েছে ৩৪.৩৯ শতাংশ। আগের সপ্তাহে গড়ে প্রতি কার্যদিবসে টার্নওভারের পরিমান ছিল ২৮৫ কোটি ৭৪ লাখ ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। এ সপ্তাহে গড়ে প্রতি কার্যদিবসে টার্নওভারের পরিমান ৫১০ কোটি ৩৪ লাখ ৩০ হাজার ৯৪০ টাকা। অর্থাৎ আগের সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে গড়ে প্রতি কার্যদিবসে টার্নওভারের পরিমান বেড়েছে ১৩০ কোটি ৫৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮০২ টাকা। আগের সপ্তাহে মোট টার্নওভারের পরিমান ছিল ১ হাজার ৮৯৮ কোটি ৭৭ লাখ ৬০ হাজার ৬৯২ টাকা। এ সপ্তাহে তা বেড়ে দাড়িয়েছে ২ হাজার ৫৫১ কোটি ৭১ লাখ ৫৪ হাজার ৭০০ টাকা।
তবে আগের সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে লেনদেনের পরিমান বাড়লেও কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর। আগের সপ্তাহে পুঁজিবাজারে লেনদেন হওয়া মোট ৩০৩ টি কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে দর বেড়েছিল ১৫২ টির, কমেছে ১৩৩ টির, অপরিবর্তিত ছিল ১৬ টি এবং লেনদেন না হওয়া কোম্পানি ছিল ২টি।
এ সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৩০৪ টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৫৭ টির, কমেছে ২৩১টির, অপরিবর্তিত ১৩টি এবং লেনদেন হয়নি ৩ টি কোম্পানির।
ক্যাটাগরি ভিত্তিক অনুযায়ী এ ক্যাটাগরির শেয়ারের দর বেড়েছে ৮৬.৪২ শতাংশ, বি ক্যাটাগরির শেয়ারের দর বেড়েছে ১.৬৯ শতাংশ, এন ক্যাটাগরির শেয়ারের দর বেড়েছে ২.৭২ শতাংশ ও জেড ক্যাটাগরির শেয়ারের দর বেড়েছে ৯.১৮ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাধারনত শেয়ারের দর বাড়া-কমার ওপর পিই নির্ভর করে। দর বাড়লে পিই বাড়ে, কমলে পিই কমে। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে সার্বিক বাজারে পিই রেশিও ১৫ এর ওপরে অবস্থান করলেও এখনো বাজার বিনিয়োগের উপযোগী রয়েছে বলে জানান তারা।
অন্যদিকে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গেল সপ্তাহে সিমেন্ট খাতে বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক লক্ষ করা গেছে। সম্প্রতি এ খাতের দুই বহুজাতিক কোম্পানি মূল্যসংবেদনশীল ঘোষণায় খাতটিতে চাঙ্গাভাব সৃষ্টি হয়েছে। গেল সপ্তাহে এ খাতে বাজার মূলধন বাড়ে ৯ দশমিক ২ শতাংশ।
বাজার মূলধনের সঙ্গে সঙ্গে গেল সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১০৩ শতাংশ। বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গেল সপ্তাহে ডিএসইতে এ খাতে মোট ৩৯৮ কোটি ১৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়। এদিকে এ খাতের তালিকাভুক্ত ৭টি কোম্পানির মধ্যে ৫টিরই গেল সপ্তাহে দর কমেছে। তবে দুই বহুজাতিক কোম্পানি হাইডেল বার্গ সিমেন্টের লভ্যাংশের ও অন্য বহুজাতিক কোম্পানির লাফার্জ সুরমা ও হোলসিম সিমেন্টের একীভূত হওয়ার ঘোষণায় এ দুই শেয়ারের দর বাড়ে, যা সার্বিকভাবে খাতটির বাজার মূলধন বৃদ্ধি করেছে।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহে লাফার্জ সুরমার সিমেন্টের দর বাড়ে প্রায় ১০ শতাংশ। এ খাতের সবচেয়ে বড় মূলধনি কোম্পানি লাফার্জ। সপ্তাহের শুরুতে এ শেয়ারের দর ছিল ৫১ টাকা ২০ পয়সা, যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়ায় ৫৬ টাকা ৪০ পয়সায়। এ সময় শেয়ারটির দর ৫৯ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত ওঠে।
উল্লেখ্য, বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জ সুরমার সঙ্গে একীভূত হচ্ছে একই খাতের বহুজাতিক আরেক কোম্পানি হোলসিম সিমেন্ট। সম্প্রতি উভয় কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ৭ এপ্রিল বোর্ডসভায় অনুমোদন পায়। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, লাফার্জ সুরমার ফ্রান্সের মূল প্রতিষ্ঠান ও হোলসিমের সুইজারল্যান্ডের মূল প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানি দুটির একীভূতকরণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশেও কোম্পানি দুটির কার্যক্রম রয়েছে।
এর আগে কোম্পানিটি জানায় একীভূতকরণ বিষয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলোচনায় বেশ অগ্রগতি হয়েছে। দুই কোম্পানি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, তারা একে অন্যের পরিপূরক হয়ে উঠতে পারে। কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উভয় প্রতিষ্ঠানের বেশ মিল রয়েছে। দুই কোম্পানির নিজস্ব শক্তি ও পরিচিতির বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে একীভূতকরণে লাভবান হওয়া যাবে মনে করে উভয় কোম্পানি, তবে গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে কোম্পানি দুটির একীভূত হতে যাওয়ার খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
এদিকে সবশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে লাফার্জ সুরমার শেয়ারের দর কমে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বা ৩ টাকা ৫০ পয়সা। সবশেষ ৫৬ টাকায় লেনদেন হয়, যা দিন শেষে দাঁড়ায় ৫৬ টাকা ৪০ পয়সায়।
২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি লাফার্জ সুরমার পরিচালনা পর্ষদ। কোম্পানিটির কর-পরবর্তী সমন্বিত মুনাফা হয়েছে ২৫৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা, শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় হয়েছে ২ টাকা ১৯ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি সমন্বিত সম্পদমূল্য ৯ টাকা ৫১ পয়সা। আগামী ১০ জুন বেলা ১১টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে।
অন্যদিকে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট ২০১৩ হিসাব বছরের জন্য ৩৮০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। যদিও এর আগের বছর কোম্পানিটি ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান করে। ২০১৩ সালে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানটির মুনাফা হয় ১৪৭ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ইপিএস ২৬ টাকা ৯ পয়সা। আগামী ২২ মে বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কোম্পানির কারখানা অফিসে এজিএম অনুষ্ঠিত হবে।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহের শুরুতে হাইডেলবার্গ সিমেন্টের শেয়ারের দর ছিল ৪৮৫ টাকা, যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়ায় ৫৮৯ টাকা। এ সময় শেয়ারটির দর বাড়ে ২১ শতাংশ। বর্তমানে এ শেয়ারের দর গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। আর সবশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে দর বাড়ে ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ বা ৪১ টাকা ১০ পয়সা। সবশেষ ৫৯০ টাকায় এ শেয়ারের লেনদেন হয়, যা দিন শেষে দাঁড়ায় ৫৮৯ টাকায়।
তবে দেশীয় বেশির ভাগ সিমেন্ট কোম্পানির শেয়ারের দরে গেল সপ্তাহে দেখা গেছে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা। এর মধ্যে সিমেন্টের দর গেল সপ্তাহের শুরুতে ছিল ৫৭ টাকা, যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়ায় ৫৩ টাকায়। এমআই সিমেন্টের শেয়ারের দর সপ্তাহের শুরুতে ছিল ৮৫ টাকা ১০ পয়সা, যা সপ্তাহে শেষে দাঁড়ায় ৮৩ টাকা ৮০ পয়সা। প্রিমিয়ার সিমেন্টের দর সপ্তাহের শুরুতে ছিল ৯৪ টাকা, যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়ায় ৯০ টাকা ৪০ পয়সায়। মেঘনা সিমেন্টর দর সপ্তাহের শুরুতে ছিল ১৩৫ টাকা ৭০ পয়সা, যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়ায় ১৩৫ টাকা ১০ পয়সায়। অন্যদিকে কনফিডেন্স সিমেন্টের শেয়ারের দর সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
[b]ঢাকা, ১২ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
পুঁজিবাজারে পিই রেশিও বেড়েছে ২.৩৯ শতাংশ
সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকা স্টক এক্সেচেঞ্জে (ডিএসই) পিই রেশিও ২.৩৯শতাংশ বেড়েছে। আগের সপ্তাহে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৬.৪৭ পয়েন্ট। এ সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬.৮৬পয়েন্টে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে পিই বেড়েছে ০.৩৯ পয়েন্ট বা ২.৩৯ শতাংশ।





