বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবীদ সমিতির আয়োজনে ১৫তম জাতীয় সম্মেলন ও সেমিনার এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘‘Transformation of Agricultural Sector in Bangladesh in 21st Century.’’
শুক্রবার সকাল ১০.৩০টায় এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারী এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষি অর্থনীতিবীদ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী এ এইচএম মোস্তফা কামাল এমপি এবং সভাপতিত্ব করেন সমিতির সম্মানিত সভাপতি এবং পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য প্রফেসর ড. শামসুল আলম।
সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইকরিস্যাট এর প্রধান অর্থনীতিবীদ ড. উত্তম দেব। অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক জনাব এইচ এম কায় খসরু, সমিতির মহাসচিব জনাব মো. আহছানুজ্জামান লিন্টু। সম্মেলনে ড. মাহবুব হোসেন স্মারক বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এম এ সাত্তার মন্ডল। ক্ষুদ্র কৃষকের অর্থনীতির প্রবক্তা ড. মাহবুব হোসেনের প্রতি বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
সম্মেলনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব এইচএম মোস্তফা কামাল বলেন, কৃষিই হচ্ছে অর্থনীতির মীল চালিকা শক্তি। প্রায় ১২৫০০ বছর আগে কৃষির যে উদ্ভব হয়েছিল তার পূর্ণতাপ্রাপ্তিই হচ্ছে নগর, সভ্যতা ও দেশ। কৃষির যে রুপান্তর সেই রুপান্তর হয়েছে আমাদের চাহিদার উপর ভিত্তি করে। খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তার কারনে নানামুখী খাবার সরবরাহ করার চ্যালেঞ্জ আমাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে খাদ্যের উৎপাদন বেড়েছে ৩ গুণ জনসংখ্যা বেড়েছে ২গুণ। ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক প্রতিআয়ের কার্যকারিতার কারণে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় যে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় প্রবৃদ্ধি অপেক্ষাকৃত কম হারে হবে এটাই স্বাভাবিক।
তবে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, কৃষিকে অটোমোশন করা, খাদ্য উৎপাদনের উল্লম্ফন আমাদের নিয়ে আসতে হবে। শহরের ন্যায় গ্রামেও নাগরিক সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে আবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় জমির পরিমান কমিয়ে এনে কৃষির জন্য জমির প্রাপ্যতা বাড়াতে হবে। কৃষির কাংখিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে পরিকল্পনা পর্যায়, প্রকল্প গ্রহণ পর্যায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ের মাঝে ঘনিষ্ট সংযোগ স্থাপন করতে হবে একসংগে কাজ করতে হবে। কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং তার প্রয়োগের মাধ্যমেই ২০৩০ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশে পরিনত করা সম্ভব হবে।
এমএম





