ঈদ উপলক্ষে সাধারণত মসলার ব্যবহার বেড়ে যায়। আর কোরবানি ঈদে মাংস রান্নার কাজে এর ব্যবহার হয় আরো বেশি পরিমাণে।

এ সুযোগ নেন মসলা ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যেই বেড়ে গেছে মসলার দাম। প্রতি বছরের মতো এবারও স্থায়ী ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পসরা সাজিয়ে বসেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। যদিও অনেকেই পশু কেনার আগেই সেরে ফেলছেন মসলা কেনার পর্ব। আর এ সময়কে টার্গেট করে আগে থেকেই পাইকারী ব্যবসায়ীরা মজুদ বাড়িয়েছেন । যার উত্তাপ এখন মসলার বাজারে।

বুধবার কারওয়ানবাজার, শান্তিনগর, খিলগাঁও, মালিবাগ এবং যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমনই চিত্র।

বেশির ভাগ বিক্রেতাই বলছে দু-একপ্রকার মসলা ব্যতীত সব মসলার দামই কিছুটা বেড়েছে। কেনা বেশি তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে। তবে পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন আমরা মসলার দাম বাড়াইনি। আগের দামেই বিক্রি করছি।

খিলগাঁও বাজারের তাহমিদ স্টোরের মো. জাফর জানান, সব মসলার দামই কিছুটা বেড়েছে। এতে আমাদের কিছু করার নেই। পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছে সে কারণে আমাদেরও দাম বাড়াতে হচ্ছে।

প্রতি বছরেরমতো এবার পাইকারি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আগে থেকেই মসলা মজুদ করেছে। এখন তারা তাদের ইচ্ছানুযায়ী দাম বাড়িয়ে বাজারে ছাড়ছে। আর এই বাড়তি দামে আমাদেরও কিনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, কিসমিসের দাম আগে ছিল ৩১০ টাকা কেজি এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ৪০০ টাকায়। এলাচি ভালোটা ছিল কেজি প্রতি ১৩০০ টাকা, এখন ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা, সাড়ে তিনশ’ টাকার জিরা এখন চারশ’ থেকে সাড়ে চারশ’ টাকা। গোলমরিচ কেজি প্রতি ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১২০০ টাকা। বাদাম আগে ছিলো ৭৫০ টাকা কেজি এখন হয়েছে ৯২০ টাকা।

তিনি আরও জানান, পেঁয়াজের দাম এবার সহনীয় হলেও ক্রেতাদের ভোগাচ্ছে আদা-রসুন। রসুনের দাম সপ্তাহ দুয়েক ধরে বাড়ার পর এখন স্থির রয়েছে। আদারও একই অবস্থা। এখন রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, আদা ১৮০ থেকে ২২০ টাকায়।

যদিও সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মসলার আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন, আদা ছাড়া এবার অন্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির তেমন আশঙ্কা নেই।

পশু কেনার আগেই মসলা কেনার জন্য মালিবাগ বাজারে আসা মোসলেম উদ্দিন জানান, সব কিছুরই দামই আকাশ ছোয়া। কোন মসলাতে হাত দিতে পারছি না। ঈদকে সামনে রেখে হঠাৎ করেই দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। পন্যের দাম পত্রিকায় দেখি এক রকম বাজারে দেখি অন্যরকম। এলাচি আগে ছিল ১৩০০ টাকা এখন দাম হাকাচ্ছে ১৬০০ টাকা।

তবে মসলা বিক্রেতা জহিরুল ইসলামের দাবি, দু-একটি বাদে প্রায় সব মসলার দামই কিছুটা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে তো খুচড়াতেও বাড়বে। তাই ক্রেতাদের আগের থেকে কিছুটা বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে।
শান্তিনগর বাজারেরও একই অবস্থা। বেশিরভাগ ক্রেতা বলছেন মসলার দাম বেড়েছে।

অন্য দিকে কিছু বিক্রেতা বলছেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রতিবছরই যে হারে মসলার দাম বাড়ে সে তুলনায় এবার তেমন একটা বাড়েনি।

শান্তিনগর বাজারের মসলা ব্যবসায়ী কাজী মোফাজ্জল ইসলাম জানান, মসলার দাম বেড়েছে। যে ব্যবসায়ী বলে বাড়েনি তারা মিথ্যা বলছে।

কাওরান বাজারের খান এন্ড ব্রাদার্সের পাইকারি ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন দাবি করেন, ঈদ উপলক্ষে আমরা কোনো মসলার দাম বাড়ায়নি। তবে কেউ কেউ বাড়াতে পারে। সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পাইকারি গরমমসলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিকুল হক বলেন, মসলার উচ্চ শুল্কের কারণে আমদানি কমেছে। তবে শুল্ক বাড়লেও দাম আগের মতই আছে। কেউ কেউ কিছু দাম বাড়িয়ে থাকতে পারেন।

জেআই