দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে এমন কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কিছু দেখাতে পারেনি। যে রাজনৈতিক দূরাবস্থার প্রভাব এখনও রয়েছে তাতে এবারও লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)র ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
শনিবার সকালে ঢাকা চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক রিপোর্টাস ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত বাজেটে প্রতিশ্রুতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, সরকার ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক-সহ সব মহল বলছে এবার প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের নিচে হবে। আর এটা হলে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির হারের পতন ঘটবে। আর দশ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নিচে নামবে। এক দশক পর প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির প্রবণতা থেকে এবার ব্যতয় ঘটবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ খুবই দূর্বল হয়ে পড়েছে। প্রবৃদ্ধির মূল পরিচালক হলো বিনিয়োগ। গত অর্থবছর প্রথমবারের জিডিপিতে ব্যক্তিখাতে ১ শতাংশ বিনিয়োগ ঘটেছে। তবে পতনের ধারা যে  আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে তাতে এবার একুটু হবে কি না এ নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। বিনিয়োগের বিকল্প সূচক দেখলে এমন আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। কারণ বিনিয়োগ বন্ধাত্ব হলো বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের বড় অন্তরায়। তিনি বলেন, অনেকে মনে করে রাজনৈতিক অস্থিরতার করণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মূলত এই অবস্থা ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে শুরু হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
আলোচনা অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতি সুলতান মাহমুদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম, এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দীন আহমেদ, ডিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সাবেক এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল আওয়াল মিন্টু সহ অর্থনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
[b]ঢাকা, ২৬ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]