কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সুশাসনের মান উন্নয়নে নানামুখী সংস্কার আনার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি আরো বাড়ানো হচ্ছে।

বুধবার বিকেলে বিবির জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে চতুর্থ সংস্করণ ‘ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০১৩’ এর মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, বহিঃদেশীয় আর্থিক স্থিতিশীলতার বিচারে বাংলাদেশ এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের টাকার মান এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় যথেষ্ট শক্তিশালী। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২২ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশের চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত এখন দেড় বিলিয়ন ডলারের ওপরে জানান তিনি।

আতিউর বলেন, প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬ শতাংশের ওপরে অর্জিত হয়েছে। বর্তমান মাথাপিছু আয় ১১৯০ ডলার।  গভর্নর বলেন, এবারের রিপোর্টে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান উভয় খাতের মূল প্রবণতাগুলো এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সেগুলোর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততা, সম্পদের গুণগতমান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মান এবং বহিঃবিশ্বের সুদহার ও বিনিময় হারের গতিধারায় যে কোনো পরিবর্তন সমন্বয়ের পর্যাপ্ত সক্ষমতার নির্দেশকগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

আতিউর বলেন, ২০১৩ সালের অধিকাংশ সময় জুড়ে বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থা সার্বিকভাবে সুষ্ঠু ও অভিঘাতসহ ছিল। মোট দেশজ উৎপাদনে ব্যাংকিং খাতের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। আর্থিক সক্ষমতার সূচকগুলোতে ছিল উর্ধ্বমুখী ধারা। পুঁজিবাজারে কিছুটা ওঠা-নামা থাকলেও তাকে সচল রাখা এবং তার ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত ছিল।

তিনি বলেন, বিশ্বের নামকরা রেটিং এজেন্সিগুলো (এসএন্ডপি ও মুডি’স) গত চার বছর ধরে স্থিতিশীল অবস্থানের স্বীকৃতি দিয়ে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যাংকে জালিয়াতি ও গুরুতর অনিয়মের ঘটনা উদ্ঘাটিত হওয়ার বিষয় উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধান কার্যক্রম জোরদার হওয়ার

ফলেই এসব অনিয়ম উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে কর্পোরেট সুশাসনে যে ঘাটতি ছিল এ অনিয়মগুলো সেই ইঙ্গিত বহন করে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনোরূপ শৈথিল্য প্রদর্শন করেনি বা করছেনা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমআর