যশোরে সোনালী ব্যাংকের নওয়াপাড়া ৩ হাজার ২৭৬ টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হদিস মিলছে না। ফলে কৃষকরা সরকারি খাদ্য গুদামে বিক্রিত ধান ও গমের মূল্য নিতে পারছেন না।
উপজেলা কৃষি অফিস, খাদ্যগুদাম ও ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, ২০১০ সালে ভর্তুকিসহ বিভিন্ন সরকারী বিল উত্তলোনের জন্য কৃষকদের ১০ টাকার একাউন্ট খোলানো হয়। সে সময় যশোরের অভয়নগর উপজেলায় সোনালী ব্যাংকের নওয়াপাড়া শাখায় ৩ হাজার ৭ শ ৭৬ টি এ্যাকাউন্ট খোলেন কৃষকরা।
যে এ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তারা ওই বছর ধান চাষে দেওয়া সরকারি ভর্তুকির টাকা উত্তোলন করেন। ওই অ্যাকাউন্ট স্থায়ী ভাবে থাকার কথা। চলতি বছর কৃষকরা সরকারি খাদ্য গুদামে ধান ও গম বিক্রি করেন। বিক্রির টাকা তাদের অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ইস্যুকৃত চেকের টাকা (ওজন মান ও মজুদ সনদ) তুলতে গিয়ে দেখেন ৬ বছর আগে খোলা ১০ টাকার এ্যাকাউন্টগুলির কোন হদিস নেই। হিসার খুঁজে না পেয়ে কৃষকরা উপজেলা কৃষি অফিসার ও নির্বাহী অফিসারের শরণাপন্ন হন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ মোতাবেক ব্যাংক গুরুত্ব সহকারে তল্লাশি করে মাত্র ৫শ হিসাবের খোঁজ পায়। বাকি হিসাব খুঁজে পেতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করেও পায় নি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এস এম মাহফুজুল আলম জানান, যাদের হিসাব নেই তাদের কাছ থেকে ধান ও গম ক্রয় করা হচ্ছে না। নতুন এ্যাকাউন্ট খোলার পরে তাদের কাছ থেকে ধান ও গম ক্রয় করা হবে। যারা ইতিমধ্যে ধান বা গম বিক্রি করেছেন তাদেরও নতুন হিসাব খোলার পর বিল নিতে হবে।
সোনালী ব্যাংক নওয়াপাড়া শাখার ম্যানেজার মো. মহাসিন আলী (এসপিও) জানান, ব্যাংকের সার্ভার পরির্বতন করা হয়েছে। তাছাড়া কৃষকরা ওই হিসাবের লেনদেন না করার কারণে তা হারিয়ে যেতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন মিয়া বলেন বিষয়টি সমাধান করতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিয়েছি। যে সকল কৃষকের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না তাদের জন্য নতুন করে হিসাব খোলানোর নির্দেশনা দিয়েছি।
এমআর





