দশম জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব মন্ত্রী সভায় অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা। এ ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশ। রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। এডিপির আকার ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। এনবিআর এর রাজস্ব লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৯  হাজার ৭২০ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কাল বিকাল সাড়ে তিনটায় এ বাজেট উপস্থাপন করবেন।
গত ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে একনাগাড়ে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের এটি প্রথম বাজেট। এর আগে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০১৩ সাল পর্যন্ত সংসদে পাঁচটি বাজেট পেশ করেছিল। এ ছাড়া, এ বাজেট হবে দেশের ৪৩তম বাজেট এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫তম বাজেট । আর অর্থমন্ত্রী হিসাবে আবুল মাল আবদুল মুহিতের অষ্টম বাজেট।
এবারও ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থাৎ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বাজেট উপস্থাপন করা হবে।  বাজেট বক্তৃতা; বাজেটের সংক্ষিপ্তসার; বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি; সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি; মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি; ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রা : হালচিত্র, ২০১৪; বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত উন্নয়ন : সাফল্যের অগ্রযাত্রা; রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা : উন্নয়নের পথে অভিযাত্রা; বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও অসমতা : উত্তরণের পথে যাত্রা; পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশ; জেলাভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ, ২০১৪-১৫ (সিলেট, খুলনা, চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর জেলা); জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদন; সংযুক্ত তহবিল প্রাপ্তি; অর্থনৈতিক সমীক্ষা; মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবিসমূহ (অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন), মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবিসমূহ (উন্নয়ন); এবং মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ জাতীয় সংসদ হতে সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিকল্পনা কমিশন প্রণীত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি : ২০১৪-১৫ এর একটি দলিল এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রণীত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যাবলী : ২০১৩-১৪ জাতীয় সংসদে পেশ করা হয়।
এদিকে চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট ছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত হয়ে এ বাজেটের আকার দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ২২০ কোটি টাকা।
এর আগে গত ২০ মে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ৮৬ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অনুমোদন দেয়। করপোরেশন এবং স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান খাতের ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অর্ন্তভুক্ত করায় এডিপি আকার বেড়ে যায়। তবে স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বাদ দিলে আগামী অর্থবছরের মূল এডিপি খাতে বরাদ্দ দাঁড়াবে ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা।
এদিকে আগামী অর্থবছরের এডিপি বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় শতকরা ৩২ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপি ৬০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের (২০১৩-১৪) মূল এডিপি ছিল ৬৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা।
এদিকে গত বুধবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ কার্য-উপদেষ্টা কমিটির সভায় সংসদের বাজেট অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যক্রম চূড়ান্ত হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাজেট অধিবেশন চলবে আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত। প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর ৪৫ ঘন্টা আলোচনা হবে। ২৯ জুন ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট পাস করা হবে।
গত ৩ জুন সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। গত ১৮ মে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় দেয়া ক্ষমতা অনুযায়ী অধিবেশনের আহ্বান করেন ।
এদিকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের লিখিত ডকুমেন্টেসের বাইরেও www.mof.gov.bd, www.bangladesh.gov.bd, www.nbr-bd.org, www.plancom.gov.bd, www.imed.gov.bd, www.bdpressinform.org এবং www.pmo.gov.bd  ওয়েবসাইটে বাজেট ডকুমেন্ট পাওয়া যাবে।
রীতিঅনুযায়ী বাজেট উপস্থাপনের পরদিন অর্থাৎ আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৪ টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন অর্থমন্ত্রী।
[b]ঢাকা, ৫ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]