[b]ঢাকা: [/b]ধীরে ধীরে প্রণোদনা থেকে সরে আসার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন বছরের টানা দ্বিতীয় মাসের মতো বন্ড ক্রয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিল ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ৭৫ বিলিয়নের পরিবর্তে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড কিনবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি। ফেডের এ সিদ্ধান্তে এশিয়ার শেয়ারবাজার ও বিকাশমান দেশগুলোর মুদ্রার ওপর কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির মুদ্রানীতি প্রণেতা ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির সভায় ফেব্রুয়ারিতে মাসিক বন্ড ক্রয় আরো ১০ বিলিয়ন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। ২০১১ সাল থেকে সুদের হার কমিয়ে রেখে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতি মাসে বাড়তি ডলার ছাপিয়ে তা দিয়ে সরকারি-বেসরকারি বন্ড কিনে আসছিল ফেড। এছাড়া ২০০৮ সালের পর থেকে এখনো ওভারনাইট বরোয়িং রেট শূন্যেই স্থির রেখেছে তারা।
সভা শেষে দেয়া বিবৃতিতে ফেড জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বরের তুলনায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা বেড়েছে। পাশাপাশি শ্রমবাজারের চিত্রে ক্রম উন্নতি অর্থনীতির অন্তর্নিহিত শক্তিমত্তা বৃদ্ধিরই প্রতিফলন।
গত বছরের মে মাসে ধীরে ধীরে প্রণোদনা তুলে নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ফেড চেয়ারম্যান বেন বারনানকে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক বাজারে বিনিয়োগ হওয়া সহজ ডলারের বড় একটি অংশ তখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেয়া শুরু করে তহবিল ব্যবস্থাপকরা, যা এসব দেশের বিনিময় হার ও চলতি হিসাবকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। এতে ভারত, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোর মুদ্রার মান চার-পাঁচ মাসের ব্যবধানে ১৫-২০ শতাংশ কমে যায়।
ডলার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নিজ মুদ্রার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হারানো বিনিময় হারের প্রায় অর্ধেকটা ফিরিয়ে আনে বেশির ভাগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
শুরুতে প্রবৃদ্ধিকে প্রাধান্য দিয়ে মুদ্রানীতিতে বিশেষ পরিবর্তন না আনলেও সাত-আট মাসের ব্যবধানে বিনিময় হার ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ার পর মঙ্গলবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুদের হার অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেয় তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও বিদেশী বিনিয়োগ ও বিনিময় হার ধরে রাখতে এ পদক্ষেপ তাদের সাহায্য করবে।
২০১১ সালে দীর্ঘমেয়াদি বন্ড কিনে চালু করা এ বিশেষ প্রণোদনা কমানোর প্রস্তাবে প্রথমবারের মতো ফেডের নীতিনির্ধারকদের প্রত্যেকেই একমত হলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, নিজ পথেই আছে ফেডারেল রিজার্ভ। তুরস্ক, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা আর্জেন্টিনার বাজারে কী হচ্ছে, এসব নিয়ে কোনো কথা বলছেন না ফেড কর্মকর্তারা।
বুধবারের সভায় প্রণোদনা আরো কমিয়ে আনার খবরটি মোটামুটি প্রত্যাশিতই ছিল বাজার সংশ্লিষ্টদের কাছে। তবুও ওই দিন শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোর মতো নিউইয়র্কের ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ বা নাসডাক সূচকও কমেছে ফেডের ঘোষণা আসার পর। দিন শেষে ১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে ডাও।
বৃহস্পতিবারের লেনদেনে এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি কমেছে জাপানের শেয়ারসূচক। ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে নভেম্বরের পর সর্বনিম্নে নেমে এসেছে নিক্কেই সূচক। সাংহাইয়ের সূচকটি কমেছে দশমিক ৫ শতাংশ। জাপান বাদে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সমন্বিত শেয়ার সূচকটি কমেছে দশমিক ৬ শতাংশ।
দিনের প্রথমভাগেই ভারতের প্রধান শেয়ারসূচক বিএসই সেনসেক্স কমেছে দশমিক ৯৫ শতাংশ। চার দিন ধরেই কমার ধারায় আছে দেশটির শেয়ারবাজার। ডলারের বিপরীতে রুপির মানও কিছুটা কমেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময় হার ছিল ৬২ দশমিক ৭৭-এ। জানুয়ারিতে মালয়েশীয় রিঙ্গিতের বিনিময় হার কমেছে ২ শতাংশের বেশি।
বুধবার সকালে তা কমেছে দশমিক ৩ শতাংশের মতো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রণোদনা ইস্যুতে আসলে গত সাত মাস ধরেই কমার ধারায় আছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মুদ্রা ও শেয়ারের দাম। সময়ে সময়ে ঘুরে দাঁড়ালেও মধ্যমেয়াদি প্রবণতাটি নিম্নমুখীই রয়ে গেছে।
মে-সেপ্টেম্বর সময়ে উদীয়মান বাজারগুলো থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ তুলে নিয়েছিল ওয়ালস্ট্রিটভিত্তিক তহবিলগুলো। পরবর্তী চার মাসে মোট অঙ্কটি আরো বেড়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর বন্ড ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ কিংবা মুদ্রায় স্পেকুলেটিভ লেনদেনে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে নেতিবাচক পূর্বাভাস দিচ্ছেন বাজার বিশ্লেষকরা, যা দেশগুলোর বিভিন্ন আর্থিক হিসাবের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে চলতি হিসাবে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সুদের হার বাড়ানোর ধারা অব্যাহত থাকলে প্রবৃদ্ধি আরো কমে আসবে তাদের।
অবশ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তবতায় আগামী সভাগুলোয় প্রণোদনা নিয়ে সিদ্ধান্ত গত দুই মাসের চেয়ে ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করে দিচ্ছেন না কেউই। সূত্র: বিবিসি ও ব্লুমবার্গ।
[b]ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএমআর[/b]
অর্থনীতি
ফেব্রুয়ারিতে প্রণোদনা ৬৫ বিলিয়নে নামিয়ে আনল ফেড
ধীরে ধীরে প্রণোদনা থেকে সরে আসার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন বছরের টানা দ্বিতীয় মাসের মতো বন্ড ক্রয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিল ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ৭৫ বিলিয়নের পরিবর্তে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড কিনবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি।





