ঠাকুরগাঁওয়ে মৃৎশিল্প ধ্বংসের মুখে। মৃৎ শিল্পের সাথে জড়িত কুমার পরিবারগুলো আর্থিক সংকটসহ অভাব অনটনে, মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে মৃত শিল্প থেকে। স্বাধীনতার প্রায় ৪৫ বছরে দেশের অনেক কিছুর পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন হয়নি এ শিল্পের।

প্রয়োজনীয় অর্থভাবে ঠাকুরগাঁও কুমার পরিবারগুলোর নেই কোনো আধুনিক মেসিন ও সরঞ্জাম। কুমার সম্প্রদায়ের হাঁড়ি-পাতিল ও কলশীসহ মৃৎ শিল্প তৈরি করতে প্রধান উপকরণ হচ্ছে এঁটেল মাটি, জ্বালানি কাঠ, শুকনো ঘাস ও খড়। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকেই বাপ-দাদার এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ৩নং আক্‌চা ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রাম মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত। তারা কুমার বা পাল নামে পরিচিত। অভাব অনটনের মধ্যেও হাতে গোনা কয়েকজন বাপ-দাদার পেশা আঁকড়ে ধরে আছে। তাদের অনেকেরই অবস্থা শোচনীয়।

মৃৎশিল্পী অভিযোগ করে বলেন, কেউ তাদের খোঁজ-খবর নেয় না, কেউ জানতে চায় না তাদের দুঃখ- কষ্টের খবর। তারা জানায়, হাঁড়ি-পাতিল ও অন্য সব জিনিসপত্র তৈরি করতে কাঁচামাল এঁটেল মাটি আমাদের গ্রামের পার্শ্ব দিয়ে বয়ে যাওয়া ঠাকুরগাঁও টাঙ্গন নদী থেকে সংগ্রহ করা যেত। বর্তমানে নদী ভরাটের কারণে নদী থেকে আর মাটি তোলা হয় না। তাই পাশের গ্রাম থেকে টাকার বিনিময়ে মাটি কিনে ভ্যানযোগে আনতে হয়।

হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে মাটির জিনিস তৈরি করে রোদে শুকিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে ব্যবহারযোগ্য করে সেগুলো জেলা-উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে, হাট-বাজারে বিক্রি করা হয়। একসময় মাটির তৈরি ও বহুমাত্রিক ব্যবহারের এ শিল্পটি প্রায় সকল মহলেই কদর ছিল। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ শিল্পের মালামাল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হত। গরিব থেকে শুরু করে নিম্ন মধ্যবিত্ত, পরিবারগুলোর মধ্যে এর কদর ও ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মত।

সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কুমাররা মাটি দিয়ে তৈরি পাতিলের বোঝাই ভার নিয়ে দলে দলে ছুটে চলত প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায়। পাতিল, গামলা, কুপি বাতি, থালা, যাতা, দুধের পাত্র, ভাপাপিঠা তৈরির হাড়ি, গরুর খাবার পাত্র, কুলকি, ধান-চাল রাখার পাত্র, কড়াই, কুয়ার পাট, মাটির ব্যাংক, শিশুদের জন্য রকমারি

নকশার পুতুল, খেলনা ও মাটির তৈরি পশু-পাখি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেত এবং পণ্যের বিনিময়ে ধান সংগ্রহ করে সন্ধ্যায় ধান বোঝাই ভার নিয়ে ফিরতো বাড়িতে। ওইসব ধান বিক্রি করে সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতো। এসব মৃৎশিল্পীরা সরকারের কাছে সহজ শর্তে লোন দাবি করেছে।

এমবিএইচ