বাজার সম্প্রসারণ এবং পণ্যের বহুমুখীকরনের জন্য বাংলাদেশে দায়িত্বরত বিভিন্ন কূটনৈতিক ও দূতাবাসসমূহকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই)।
অন্যদিকে পণ্যের রফতানি বাড়াতে বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়েছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কনস্যুলাররা। পণ্যের বহুমুখীকরণ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বন্দর অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা। পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণে তাদের পক্ষ থেকে রোড ম্যাপ প্রণয়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) উদ্যোগে আয়োজিত ‘রফতানি উন্নয়ন : আমদানিকারক দেশগুলোর সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ সব পরামর্শ দেওয়া হয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খান।
বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত/হাইকমিশনার ও কমার্শিয়াল কাউন্সিলরবৃন্দ গোলটেবিল আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং উক্ত বিষয়ে তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তৃতায় ডিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খান বাংলাদেশী পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং পণ্যের বহুমুখীকরনের জন্য দূতাবাসসমূহকে এগিয়ে আসার সহযোগিতার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঐতিহ্যগত পণ্যেগুলোর পাশাপাশি নতুন নতুন পণ্যের দিকে দৃষ্টি দিচ্ছে। তিনি বাংলাদেশী পণ্যের রপ্তানী বৃদ্ধির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আরো বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ, রপ্তানি বাণিজ্যে সার্ভিস সেক্টরের অন্তভুক্তিকরন, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধান পদক্ষেপ গ্রহণ, দক্ষ মানব সম্পদ তৈরী এবং ডব্লিউটিও-এর মত বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক সংস্থার নিকট প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি সমূহ বাস্তবায়নের আহবান জানান।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরাকের রাষ্ট্রদূত সাকির কাসিম মাহাদি বলেন, বাংলাদেশ ও ইরাকের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য পরিমানে বৃদ্ধি পায়নি। তিনি দুদেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক আরোও বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বিশেষ করে ইরাকে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহবান জানান।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালের জন্য ইরাকে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডালারের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, যার ৪০ ভাগ ব্যয় করা হবে নতুন বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করার জন্য। তিনি জানান, তৈরী পোষাক, সিরামিক, ঔষধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা ইরাকে বিনিয়োগ করতে পারেন।
তিনি বলেন, ইরাকে প্রচুর বাংলাদেশী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে এবং এ কাজে নিয়োজিত লোকের সংখ্যা আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশে অবস্থিত ইরাকের দূতাবাস প্রতিদিন প্রায় ১০০ জন লোককে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভিসা প্রদান করে থাকে।
শ্রীলংকার হাইকমিশনার ডব্লিউ এ সারাথ কে ওয়ারাগোদা বলেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অথবা সম্ভাবনাময় বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জানান, ২০১২ সালে বাংলাদেশে শ্রীলংকার রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ২২% এবং আমদানি বেড়েছে ৯%।
তিনি বলেন, শ্রীলংকার সরকার কর ব্যবস্থাকে আরো সরলীকরন করেছে। তিনি জানান বাংলাদেশের সমুদ্র পরিবহের ১৬ ভাগই হয়ে থাকে শ্রীলংকার সমুদ্রবন্দর সমূহের মাধ্যমে। তিনি আরোও ব্যাপক ভাবে শ্রীলংকা সমুদ্র বন্দর সমূহ ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের আহবান জানান।
তিনি জানান, ২০১২ সালে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা মধ্যে ব্যালেন্স অফ ট্রেড ছিল ৩০.১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
কোরিয়ান ট্রেড সেন্টার’র (কট্রো) সিনিয়র ম্যানেজার ফারুক আহমেদ বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া সারা বিশ্বের মাঝে ৭ম বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ এবং ২০১২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া সারা বিশ্ব থেকে ৫১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ৯৫ টি পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে থাকে। তিনি জানান বাংলাদেশের তৈরী পোষাক এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে।
তিনি বাংলাদেশী পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে বাংলাদেশী মিশন সমূহের দক্ষতা ও কার্যক্রম আরোও ব্যাপকতর করার আহবান জানান। তিনি বলেন, দুদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরোও সুদৃঢ় করার জন্য ঢাকা চেম্বার, কোরিয়া ইমপোটার্স এসোসিয়েশন (কইমা), কোট্রো প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে সেমিনার, ওয়ার্কশপ আয়োজন করতে পারে। তিনি দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফর আরো বাড়ানোর উপর জোর দেন।
বাংলাদেশস্থ তুরষ্ক দূতাবাসের বিজনেস কাউন্সিলর টুলে ইয়ানিক বলেন, তুরষ্ক প্রতিবছর তৈরী পোষাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চমড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং সিরামিক প্রভৃতি পণ্য প্রচুর পরিমাণে আমদানি করে থাকে।
তিনি বাংলাদেশী পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের জন্য পণ্যের বহুমুখীকরন, উৎপাদনের দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাত ও যোগাযোগ খাতের আধুনিকায়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরন এবং শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতকরনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাসের অস্ট্রেলিয়ান ট্রেড কমিশনের কান্ট্রি ম্যানেজার মিনহাজ চৌধুরী বলেন, ২০০৪ সাল থেকে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে এবং ২০১২-১৩ সালে আস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ থেকে যথাক্রমে ৫৭২,৫০৫ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি ও ৪১৮,৯৩৩ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার আমদানি করেছে।
তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ার বাজারে বিদেশী নতুন সাপ্লাইকারীদের ব্যবসা পরিচালনার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ওসামা তাসীর মুক্ত আলোচনা সঞ্চালন করেন।
ডিসিসিআই সহ-সভাপতি খন্দকার শহীদুল ইসলাম, পরিচালক হায়দার আহমদ খান, এফসিএ, মুক্তার হোসেন চৌধুরী, এস রুমি সাইফুল্লাহ, হোসেন এ সিকদার, আলহাজ্ব আব্দুস সালাম, মোঃ শোয়েব চৌধুরী, এ কে ডি খায়ের মোহাম্মদ খান, আমেরিকান দূতাবাসের পলিটিক্যাল অফিসার জসুয়া হ্যাচ এবং স্পেন দূতবাসের এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার শফিকুর রহমান আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
[b]ঢাকা, ১০ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
বাজার সম্প্রসারণে বিদেশীদের সহযোগিতা চেয়েছে ডিসিসিআই
বাজার সম্প্রসারণ এবং পণ্যের বহুমুখীকরনের জন্য বাংলাদেশে দায়িত্বরত বিভিন্ন কূটনৈতিক ও দূতাবাসসমূহকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই)।





