চারদিনের আন্তর্জাতিক প্লাষ্টিক মেলা শেষ হচ্ছে রেববার। মেলায় ব্যাপক বিক্রি হয়েছে দেশে তৈরি প্লাষ্টিক সামগ্রী ও যন্ত্রাংশ। বিশেষ করে ওয়ালটনের তৈরি প্লাষ্টিক যন্ত্রাংশ দেশী-বিদেশী ইলেক্ট্রনিক্স ও অটোমোবাইল শিল্পের বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছে। এসব যন্ত্রাংশ দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়ালটন। ওয়ালটন প্লাষ্টিক শিল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যে প্লাষ্টিক শিল্পের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। অভ্যন্তরীণভাবে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার প্লাষ্টিক পণ্য উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে রফতানি হয়েছে ৮ কোটি ৪৫ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারের প্লাষ্টিক পণ্য। এতে করে এ শিল্পের বিনিয়োগকারীদের প্রতিবছর প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার উদ্বোধনের পর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশী-বিদেশী ক্রেতা মেলা পরিদর্শন করেছেন। অনেকে তাৎক্ষণিক ক্রয়াদেশ দিয়েছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত প্লাষ্টিক শিল্পের উজ্জল ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, প্লাষ্টিক শিল্পের অগ্রগতি ঈর্ষনীয় এবং এ অগ্রগতি ভষিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এ শিল্পের সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকার সর্বাত্বক সহযোগীতা দিতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।
বাংলাদেশে প্লাষ্টিক হাউজহোল্ড আইটেম, প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়াল, খেলনা, ফার্মাসিউটিক্যালস আইটেম, প্লাষ্টিক ফার্নিচার, মেলামাইন ও গার্মেন্টস একসেসরিজসহ ১৫ ক্যাটাগরির পণ্য-সামগ্রী তৈরি হচ্ছে।
মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, এসি, এবং টেলিভিশনসহ যাবতীয় ইলেক্ট্রনিক্স এবং অটোমোবাইল পণ্য সামগ্রীর প্লাষ্টিক যন্ত্রাংশ তৈরি করছে ওয়ালটন। ওয়ালটনে রয়েছে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বৃহৎ মোল্ড এবং ডাই মেকিং ইউনিট, ভিএমসি মেশিন, সিএনসি ওয়্যারকাট মেশিন, পলিইউরিথেন ফোমিং প্ল্যান্ট, থার্মোফোমিং বা ভ্যাকুয়াম ফোমিং ইউনিট।
ওয়ালটনের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং বিভাগের প্রধান লোকমান হোসেন আকাশ বলেন, উচ্চ প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পে যেসব যন্ত্রাংশ ও প্লাস্টিক পণ্য প্রয়োজন হয় সেটা তৈরি করছে ওয়ালটন। অনেক দাম দিয়ে এসব যন্ত্রাংশ আগে আমদানি করা হতো। ওয়ালটন এসব পণ্য নিজেরাই তৈরি করছে। এখন ওয়ালটন রপ্তানির চিন্তা করছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্লাস্টিক প্রযুক্তি নিয়ে বাস্তব ভিত্তিক উচ্চতর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়ালটন।  
জানা গেছে, বাংলাদেশের প্লাষ্টিক পণ্যসামগ্রী রফতানি হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এর মধ্যে রযেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ।
বাংলাদেশ প্লাষ্টিক প্রস্তুত ও রফতানিকারক এ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি মো. জসীম উদ্দিন বলেন, দেশের রফতানি বাণিজ্যে প্লাষ্টিকশিল্প শক্ত অবস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। দ্রুত এ শিল্প সম্প্রসারণে একটি প্লাষ্টিক শিল্প নগরী গড়ে তোলা প্রয়োজন। আশা করছি, বর্তমান শিল্পবান্ধব সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নেবে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরামউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্লাষ্টিক শিল্পের বিনিয়োগকারীরা পণ্য উৎপাদনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মেশিন ও যন্ত্রাংশ ব্যবহার করছে। এরফলে দেশের কৃষিশিল্পে যেমন বিপ্লব হয়েছে, তেমনি প্লাষ্টিক শিল্পেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন হচ্ছে। তিনি বলেন ইন্ডাষ্ট্রিয়াল শিল্পে প্লাষ্টিক এখন রাইজিং টাইগার।
[b]ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]