ভোলার লালমোহনে লক্ষমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ আলু আবাদ হয়েছে এ বছর। আর আলু উৎপাদন খরচের চেয়ে বাজার মূল্য কম থাকায় কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। স্থানীয় বাজারে আলুর কোন চাহিদা না থাকায় আলু চাষীরা এখন কালাইয়া, বরিশালের ব্যবসায়ীদের দিকে ঝুঁকছেন। এসব এলাকার ব্যবসায়ীরা ক্ষেত থেকেই কম মূল্যে আলু কিনি নিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার এইচএম মনিরুজ্জামান বলেন, লালমোহনের ৯ ইউনিয়নে এ বছর আলুর লক্ষমাত্রা ছিল প্রায় ৯‘শ হেক্টর। কিন্তু উৎপাদন হয়েছে ১৭ শত ১৫ হেক্টর। এর মধ্যে এক ইউনিয়নেই অর্ধেক পরিমাণ আলু চাষাবাদ হয়েছে। উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়ন আলুসহ রবিশস্য চাষাবাদের জন্য বিখ্যাত এলাকা। এই ইউনিয়নেই প্রায় ৮‘শ হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদ করেছে কৃষকরা।
পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের পাঙ্গাসিয়া গ্রামের আলু চাষী আবুল কালাম বলি এ বছর ২ কানি (প্রায় সোয়া ৩ একর) জমিতে আলু চাষ করেন। এতে তার উৎপাদন খরচ হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু এ বছর আলুর মূল্য কম থাকার কারণে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। তিনি লালমোহনের কোন ব্যবসায়ীর কাছে আলু বিক্রি করতে পারছেন না। স্থানীয় কেউ আলু কিনতে আগ্রহী হচ্ছে না। তাই এতোদিন আলু ক্ষেত থেকে তুলেননি। শেষ সময়ে পটুয়াখালী জেলার কালাইয়া বন্দরের ও বরিশালের আলু ব্যবসায়ীরা আলু কিনতে আগ্রহী হয়েছে। তারা মন প্রতি ১৮০ টাকা করে আলু কিনছে। এতে আলু চাষীদের উৎপাদন খরচ না মিটলেও চালান ঘরে তোলার আশায় সবাই পানির দরে আলু বিক্রি করে দিচ্ছে।
আলু চাষী আবুল কালাম বলি আরো জানান, তিনি এক কানি জমি থেকে মাত্র ৭০ হাজার টাকার আলু বিক্রি করতে পেরেছেন। এতে তার অর্ধেকেরও বেশি লোকসান হয়েছে বলে দাবী করেন। একই এলাকার আলু চাষী নুরুল ইসলাম চাপরাষী জানান, তিনি ১৫ গন্ডা (১ একর ২০ শতাংশ) জমিতে আলু চাষ করেছেন। এতে তার উৎপাদন ব্যয় হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। আলুর মুল্য কম হওয়াতে তারও অর্ধেক টাকা লোকসান হয়েছে বলে জানান।
এদের মতো ওই এলাকার আরো অনেক আলু চাষীরাই এ বছর মাথায় হাত তুলেছেন আলু চাষ করে। তাদের এখন একটাই টার্গেট যেমন করেই হোক অন্তত খরচটা উঠিয়ে নিতে পারলেই হলো। ভোলায় আলুসহ রবিশষ্য চাষাবাদের জন্য বিখ্যাত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও পূর্বে কোন কোল্ড স্টোরেজ ছিল না। এ বছর ভোলার ভেদুরিয়া এলাকায় শাহবাজপুর নামে একটি কোল্ড স্টোরেজ হয়েছে। সেখানে এতোদিন পণ্য রাখার জন্য চালু করা হয়।
[b]ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]